ছবি : সংগৃহীতউৎসবমুখর পরিবেশ আর জমকালো আয়োজন— তায়কোয়ান্দো মানেই এই দুইয়ের মেলবন্ধন। বাংলাদেশ তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এভাবেই এগিয়ে চলছে তারা। চলতি বছরের ১৮ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করে সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা এবং তার কমিটি। দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই দুটি বড় আয়োজন মাঠে নামায় বর্তমান কমিটি। যার একটি হলো ফেডারেশন কাপ; এরপর ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্ট। দুটি বড় আসরের সফল সমাপ্তির পর গতকাল থেকে তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ব্ল্যাক বেল্ট টেস্ট তায়কোয়ান্দো।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমনেশিয়ামে আয়োজিত এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩০০ জন প্রতিযোগী ব্ল্যাক বেল্ট টেস্টে অংশ নিচ্ছেন। গতকাল আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। মাহমুদুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস শাকুর চৌধুরী, টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ফেডারেশনের সদস্য, বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও দেশের পাঠকপ্রিয় পত্রিকা সময়ের আলোর উপদেষ্টা সম্পাদক শায়রুল কবির খান, মরিয়ম বেগম ইতি, মোসলেম মিয়া, মাসুম কবিরসহ ফেডারেশনের অন্য কর্তাব্যক্তিরা।
ব্ল্যাক বেল্ট টেস্টে অংশ নিতে আসা প্রতিযোগীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা। অনুষ্ঠানে আসা প্রতিযোগীদের অভিভাবক থেকে প্রতিযোগিতার বিচারক ছাড়াও নিজ ফেডারেশনের সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ জানান ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক। আমরা সবাই আপনাদের জন্য কাজ করছি। যারা আমাদের অভিভাবক আছেন, আমরা তাদের জন্যও কাজ করতেছি। আমাদের কোনো ভুল হলে আপনারা সাজেস্ট দেবেন, আপনাদের কোনো সমস্যা থাকলে আমাদের বলবেন। কারণ আপনাদের নিয়েই বাংলাদেশ। আপনাদের ছেলেমেয়েকে নিয়ে আমাদের ফেডারেশন। সে জন্য আমরা সুন্দরভাবে কাজ করতে চাচ্ছি। আমার আর কোনো বক্তব্য নেই। এখানে আমাদের প্রধান অতিথি উনিই বিস্তারিত বলবেন, যোগ করে রানা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি আব্দুস শাকুর চৌধুরী বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটা আমার খেলোয়াড়দের জন্য খুবই আনন্দের। কারণ একটা স্টেজে যাওয়ার পরে তোমরা ব্ল্যাক বেল্ট টেস্টের মতো বড় প্রতিযোগিতায় সুযোগ পেয়েছ। আমি আশা করব এবং আমার শুভ কামনা থাকবে তোমাদের জন্য যাতে তোমরা তোমাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পার।
তোমাদের খেলাধুলা, মনের আনন্দ, শরীরের গঠন সবকিছু যেন খেলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ভবিষ্যতে এই দেশের সুউচ্চ নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পার। যারা খেলাধুলা করে তাদের মন সবসময় প্রফুল্ল থাকে, ভালো থাকে এবং কোমলমতি এই মনগুলো যেন ভবিষ্যতে আমাদের দেশের উপকারে আসে এই দোয়া থাকবে।’ প্রধান অতিথি আরও যোগ করেন, আমরা চেষ্টা করব তোমাদের সবরকম সহযোগিতা করতে। আশাকরি ভবিষ্যতে খেলাধুলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে তোমরা খেতাব অর্জন করবে, তোমাদের সুনাম, দেশের সুনাম তোমরা নিয়ে আসবে।
ব্ল্যাক বেল্ট টেস্ট প্রতিযোগিতার টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান শায়রুল কবির খান বলেন, আজকে (গতকাল) যারা কালো ফিতা (ব্ল্যাক বেল্ট) অর্জন করবে, তারা পর্যায়ক্রমে জাতীয় পুরস্কার, জাতীয় প্রতিযোগিতা, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ারও সুযোগ পাবে। সরকারের ও প্রধানন্ত্রীর যে একটা সেøাগান ‘খেলা হবে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ আমাদের এই খেলাধুলাটাকে এবং এই তায়কোয়ান্দো খেলাটাকে আমরা জনপ্রিয় করতে চাই দুটি লক্ষ্য থেকে। যার একটি হলো— প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আমরা খেলোয়াড় পাব। যারা ভবিষ্যতে জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও উন্নত, আরও উচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই খেলা যদি আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনপ্রিয় করতে পারি, তাহলে শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষামূলক একটা প্রস্তুতি থাকবে।
শায়রুল কবির খান যোগ করেন, সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য আছে, সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন আমরা তায়কোয়ান্দোকে জনপ্রিয় করতে পারি। আমাদের সবচেয়ে বড় যে লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করা— সেটির সম্ভাবনা বাড়বে। এ ছাড়া তায়কোয়ান্দো নিজস্ব জায়গায়, নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে, নিজস্ব ভবনে প্রশিক্ষণ হবে, খেলাধুলা হবে, অফিস হবে— এই বিশ্বাসটা রেখেই আমরা এগিয়ে যাব এবং অবশ্যই সাফল্য অর্জন করতে পারব। আপনাদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, আপনাদের প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে আমার বক্তব্য সমাপ্ত করছি। আসসালামু আলাইকুম।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে