সংগৃহীত ছবিসকালের নাশতায় কেউ রুটি, ওটস কিংবা ফলমূল বেছে নেন, আবার অনেকের দিন শুরু হয় ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, ডিম ভাজি কিংবা আগের রাতের বেঁচে যাওয়া পান্তা ভাত দিয়ে। চেনা বাঙালি খাদ্যাভ্যাসে ভাতের কদর চিরন্তন—ভাত খেলে যেমন পেট তৃপ্ত থাকে, তেমনই পাওয়া যায় সারাদিনের কাজের শক্তি। তবে সকালে ভাত খাওয়ার এই অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী, তা নিয়ে দ্বিধা ও কৌতূহলের শেষ নেই।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী হেলথশটস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ নেহা পাঠানিয়া জানান, সঠিক পরিমাণে এবং অন্যান্য পুষ্টিকর উপকরণের সমন্বয়ে খেলে সকালের নাশতায় ভাত নির্দ্বিধায় রাখা যেতে পারে। ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত সবজি ও প্রোটিন যুক্ত করলে তা একটি আদর্শ সুষম খাবারে পরিণত হয়। তবে পরিমাপটা নির্ভর করবে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, দৈনন্দিন পরিশ্রমের ধরন ও পুষ্টির চাহিদার ওপর।
তাৎক্ষণিক শক্তি যোগায়
ভাত কার্বোহাইড্রেটের দুর্দান্ত উৎস। শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্ম পরিচালনা এবং সকাল থেকেই চাঙ্গা থাকতে কার্বোহাইড্রেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে দিনের শুরুতেই শুধু ভাত না খেয়ে সঙ্গে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা প্রয়োজন।
সবজি ও প্রোটিনে বাড়ে পুষ্টিগুণ
ভাতের সঙ্গে গাজর, শিম, মটরশুঁটি বা পালংশাকের মতো মৌসুমি সবজি যুক্ত করলে খাবারে ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবার (আঁশ)-এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি ডিম, মাছ বা ডাল যুক্ত করলে খাবারটি পুরোপুরি ভারসাম্যপূর্ণ হয়। সাদা চালের বদলে লাল চালের ভাত খেলে ফাইবার আরও বেশি পাওয়া যায়।
দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে
ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার খেলে তা দ্রুত হজম না হয়ে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়। ফলে কাজের ফাঁকে অহেতুক স্ন্যাকস বা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা দূর হয়।
ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে করণীয়
সাদা ভাতে থাকা সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করা বা গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্তদের ভাতের পরিমাণের দিকে সতর্ক নজর রাখা জরুরি। ভাতের থালায় ভাতের অংশ কমিয়ে শাকসবজি ও প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
একইভাবে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে একবারে ভাত বর্জন না করে সারা দিনের মোট ক্যালরি গ্রহণ, পরিমাপ এবং কায়িক পরিশ্রমের ওপর নজর দেওয়া উচিত। ডায়াবেটিস বা অন্যান্য জটিলতা থাকলে চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক পরিমাপ জেনে নেওয়া ভালো।
দিনের কোন সময়ে ভাত খাওয়া সেরা?
সকাল, দুপুর কিংবা রাত—যেকোনো সময়েই ভাত খাওয়া সম্ভব। ‘রাতে ভাত খেলেই ওজন বাড়ে’—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সবার ক্ষেত্রে এক নয়। বরং সারা দিনে কতটা ক্যালরি গ্রহণ করছেন, খাবারের মান কেমন এবং কতটা শারীরিক পরিশ্রম করছেন—তা-ই মূল বিষয়। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত ভারী খাবার খেলে হজমে অস্বস্তি হতে পারে। তাই রাতের খাবারের পর ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছুটা সময় রাখা উচিত।
সকালে ভাত খাওয়ার অভ্যাস কি তবে বাদ দেবেন?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়াকে কোনোভাবেই ঢালাওভাবে অস্বাস্থ্যকর বলা যাবে না। বরং পরিমিত ভাতের সঙ্গে শাকসবজি, ডিম, ডাল বা মাছ যুক্ত করে একটি চমত্কার সুষম নাশতা তৈরি করা সম্ভব। তাই সকালে ভাত খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা ছেড়ে দেওয়ার কোনো দরকার নেই; শুধু খেয়াল রাখুন খাবারের পরিমাণ, পুষ্টির ভারসাম্য ও নিজের শারীরিক চাহিদার দিকে।
সময়ের আলো/জোই