মাথার কাছে মোবাইল রেখে ঘুমালে কী ক্যানসার হয়?

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

রাতে ঘুমানোর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখা, বার্তার উত্তর দেওয়া কিংবা পরদিনের জন্য অ্যালার্ম সেট করা অনেকেরই অভ্যাস। এসব কাজ শেষে

2026-10-20T10:12:09+00:00
2026-10-20T10:14:30+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
ফিচার
মাথার কাছে মোবাইল রেখে ঘুমালে কী ক্যানসার হয়?
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১২ এএম  আপডেট: ২০.১০.২০২৬ ১০:১৪ এএম
ঘুমানোর সময় মোবাইল মাথার কাছে না রাখাই নিরাপদ। ছবি : সংগৃহীত
রাতে ঘুমানোর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখা, বার্তার উত্তর দেওয়া কিংবা পরদিনের জন্য অ্যালার্ম সেট করা অনেকেরই অভ্যাস। এসব কাজ শেষে অনেকে মোবাইল ফোনটি বালিশের পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। কেউ কেউ আবার বিছানার কাছেই ফোন চার্জে দেন। তবে, ঘুমের সময় মাথার কাছে মোবাইল ফোন রাখা কতটা নিরাপদ? এতে কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে?

মোবাইল ফোন থেকে কী ধরনের বিকিরণ নির্গত হয়?

মোবাইল ফোনে যোগাযোগের জন্য রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। এসব তরঙ্গের সাহায্যে ফোন মোবাইল নেটওয়ার্ক, ওয়াই-ফাইসহ বিভিন্ন তারবিহীন প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।

রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণকে নন-আয়োনাইজিং বিকিরণ বলা হয়। এক্স-রে বা গামা রশ্মির মতো আয়োনাইজিং বিকিরণের তুলনায় এর শক্তি কম। তাই এটি সরাসরি ডিএনএর রাসায়নিক বন্ধন ভাঙতে পারে না। তবে, দীর্ঘ সময় এ ধরনের বিকিরণের সংস্পর্শে থাকার সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মোবাইল ফোন থেকে শরীরে কতটা রেডিওফ্রিকোয়েন্সি শক্তি শোষিত হয়, তা পরিমাপের একটি পদ্ধতি হলো স্পেসিফিক অ্যাবজর্পশন রেট। বিভিন্ন দেশে নির্ধারিত নিরাপত্তামান অনুযায়ী ফোনের বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবে ফোনের মডেল, নেটওয়ার্কের অবস্থা ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী বিকিরণের মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে।


ঘুমের সময় ফোন কাছে রাখলে কী ক্যানসার হতে পারে?

মোবাইল ফোনের বিকিরণ নিয়ে আলোচিত উদ্বেগগুলোর একটি হলো ক্যানসারের ঝুঁকি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীন আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা ২০১১ সালে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্রকে ‘সম্ভবত ক্যানসার সৃষ্টিকারী’ বা গ্রুপ ২বি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে।

তবে, এই শ্রেণিবিন্যাসের অর্থ এই নয় যে মোবাইল ফোনের বিকিরণ নিশ্চিতভাবেই ক্যানসার সৃষ্টি করে। বরং মানুষের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সম্পর্কের বিষয়ে সীমিত প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল, যা নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

মোবাইল ফোনের ব্যবহার ও মস্তিষ্কের ক্যানসারের মধ্যে সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গবেষণা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে শুধু ঘুমের সময় ফোন মাথার কাছে রাখলেই ক্যানসার হবে- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তাই এ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। 

মোবাইল ফোন যেভাবে ঘুমের ক্ষতি করতে পারে

বিকিরণ নিয়ে উদ্বেগের বাইরেও মোবাইল ফোনের কিছু প্রভাব রয়েছে, যেগুলো ঘুমের মানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

মোবাইল ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত আলো, বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার করলে মেলাটোনিন হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণ ও ঘুমের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা কিংবা বার্তা পড়তে গিয়ে ঘুমানোর সময় পিছিয়ে যায়। ফলে, পর্যাপ্ত সময় বিছানায় কাটানোর পরও ঘুমের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

ঘুমানোর সময় ফোন ব্যবহার না করলেও নোটিফিকেশনের কারণে সমস্যা হতে পারে। কল বা বার্তার শব্দ, ভাইব্রেশন কিংবা স্ক্রিন জ্বলে ওঠার ফলে ঘুমের ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে। এর প্রভাব পরদিন ক্লান্তি, ঝিমুনি ও কাজে মনোযোগ কমে যাওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে।


বিছানার পাশে ফোন থাকলে মাঝরাতে ঘুম ভাঙার পর সেটি হাতে নেওয়া সহজ হয়। সময় দেখার জন্য ফোন হাতে নিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদ বা বার্তা দেখতে শুরু করেন। এতে অল্প সময়ের জন্য ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকতে হয়। ফলে, ঘুমের স্বাভাবিক রুটিন ব্যাহত হতে পারে।

ঘুমের ব্যাঘাত কমাতে এবং ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে কয়েকটি অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে।

ফোনটি বালিশের নিচে বা মাথার একেবারে পাশে না রেখে পাশের টেবিলে রাখতে পারেন। এতে ঘুমের মধ্যে বারবার ফোন দেখার প্রবণতা কমতে পারে। দূরত্ব বাড়ালে ফোনের রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণের সংস্পর্শও কমে।

রাতে মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রয়োজন না থাকলে এয়ারপ্লেন মোড ব্যবহার করতে পারেন। তবে, ফোনের সেটিংস অনুযায়ী ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ চালু থাকতে পারে। সব তারবিহীন সংযোগ বন্ধ রাখতে চাইলে সেগুলোও পরীক্ষা করে নিন।


ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ করার চেষ্টা করুন। এর পরিবর্তে বই পড়া, হালকা গান শোনা কিংবা পরদিনের কাজ গুছিয়ে রাখার মতো অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

রাতে অপ্রয়োজনীয় কল, বার্তা ও নোটিফিকেশন বন্ধ রাখতে ডু নট ডিস্টার্ব মোড ব্যবহার করুন। জরুরি যোগাযোগের প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট নম্বর থেকে কল আসার সুযোগ চালু রাখতে পারেন।

চার্জ দেওয়ার সময় ফোন বালিশ, চাদর বা কম্বলের নিচে রাখবেন না। অতিরিক্ত তাপ জমে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে ফোন ও চার্জার শক্ত, সমতল এবং বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন। এ ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনাও অনুসরণ করা জরুরি।

সকালে ওঠার জন্য ফোনের ওপর নির্ভরশীল হলে আলাদা অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করতে পারেন। এতে রাতে ফোন বিছানার কাছে রাখার প্রয়োজন কমবে।

সূত্র : আমেরিকান অনকোলজি ইনস্টিটিউট

সময়ের আলো/মহু

  বিষয়:   মোবাইল  ঘুম  ক্যানসার  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: