সারারাত ঘুমানোর পরও সকালে ঘুম ঘুম ভাব, শরীরে তীব্র ক্লান্তি, মেজাজ খিটখিটে থাকা কিংবা সারাদিন এক ধরনের অস্বস্তি ও মানসিক চাপ অনুভব করেন অনেকেই। কিন্তু কেন এমনটি হয়?
সকালে কোর্টিসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি
অনেকের ধারণা, এর পেছনে অতিরিক্ত কাজ কিংবা মানসিক চাপ দায়ী। তবে, শরীরের স্ট্রেস হরমোন কোর্টিসলের স্বাভাবিক ওঠানামার সঙ্গেও সকালের সতেজতা ও মানসিক অবস্থার সম্পর্ক রয়েছে।
কোর্টিসল আসলে শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি হরমোন। ঘুম থেকে জাগতে সাহায্য করা, শরীরকে সক্রিয় রাখা এবং চাপ বা বিপদের পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তবে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে কোর্টিসলের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হলে ঘুম, মেজাজ, বিপাকক্রিয়া এবং সামগ্রিক সুস্থতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ঘুম থেকে ওঠার সময় শরীরে কোর্টিসলের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে থাকে। ঘুম ভাঙার পর প্রথম ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটে এই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে কোর্টিসল অ্যাওয়েকেনিং রেসপন্স বলা হয়। এই সময়টিতে শরীর ধীরে ধীরে ঘুমের অবস্থা থেকে জেগে ওঠার প্রস্তুতি নেয়। তাই ঘুম থেকে উঠেই অতিরিক্ত মানসিক উত্তেজনা তৈরি করে এমন অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখা
চোখ খোলার পরপরই মোবাইল হাতে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল বা নেতিবাচক খবর দেখার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। এতে দিনের শুরুতেই মস্তিষ্ক নানা ধরনের তথ্য ও উদ্দীপনার মুখোমুখি হয়, যা শরীর ও মনের জন্য ঠিক নয়। তাই সম্ভব হলে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম কিছু সময় মোবাইল, ল্যাপটপ বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন। এতে দিনের শুরুটা তুলনামূলকভাবে শান্তভাবে করা সম্ভব হয় এবং অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপও কমানো যেতে পারে।
ঘুম ভাঙার পরও ঘর অন্ধকার রাখা
অনেকে ঘুম ভাঙার পরও ঘর অন্ধকার করে রাখেন, যা শরীর ও মনের ভেতর একপ্রকার অবসাদ তৈরি করে। সেই অবসাদ থেকে আসে ক্লান্তি। তাই ঘুম থেকে উঠে জানালা বা পর্দা খুলে দিনের আলো ঘরে ঢুকতে দিন। সম্ভব হলে কিছু সময় বাইরে বা বারান্দায় প্রাকৃতিক আলোতে থাকুন। সকালের আলো শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা দৈনিক জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত। এটি ঘুম-জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং সকালে শরীরকে জেগে ওঠার সংকেত দেয়।
খালি পেটে কফি খাওয়ার অভ্যাস
অনেকেই ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে কফি পান করেন। ক্যাফিন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে কোর্টিসলের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই কফি খেলে দিনের একেবারে শুরুতে না খেয়ে কিছুটা পরে পান করা যেতে পারে। তবে, সবার শরীরে ক্যাফিনের প্রতিক্রিয়া একরকম নয়। কারও ক্ষেত্রে খালি পেটে কফি অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটির কারণ হতে পারে, আবার কারও তেমন কোনো সমস্যা নাও হতে পারে।
সকালে পানি পান না করা
রাতভর পানি না খাওয়ার কারণে সকালে শরীরে কিছুটা পানিশূন্যতা তৈরি হয়, যা শরীরকে কিছুটা নিষ্ক্রিয় করে তোলে। তাই শরীরকে স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় করতে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করুন। মাত্র এক থেকে দুই গ্লাস পানি দিয়েই দিন শুরু করা যেতে পারে। তবে, সবাইকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিই পান করতেই হবে- এমন কোনো নিয়ম নেই। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন।
তবে এই ক্লান্তির পেছনে স্লিপ অ্যাপনিয়া, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপসহ বিভিন্ন কারণও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সময়ের আলো/মহু