প্রতিদিন এক কোয়া রসুন খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই আগ্রহ রয়েছে। গবেষণায় রসুনের কিছু সম্ভাব্য হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালিবান্ধব উপকারের ইঙ্গিত মিললেও, শুধু রসুন খেলেই স্ট্রোক প্রতিরোধ করা যায় এমন প্রমাণ নেই।
রসুন চটকানো বা কুচি করার পর অ্যালিসিন নামের একটি সক্রিয় সালফারযুক্ত যৌগ তৈরি হয়। এই উপাদান রক্তনালির কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনের নির্যাস উচ্চ রক্তচাপ কমাতে এবং রক্তনালির পেশি শিথিল করতে সহায়তা করতে পারে।
স্ট্রোকের অন্যতম বড় ঝুঁকি উচ্চ রক্তচাপ। আবার রক্তে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল বেশি থাকলে ধমনিতে প্লাক জমে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। নিয়মিত রসুন খাওয়ার সঙ্গে এলডিএল কমা এবং প্লাক জমার গতি ধীর হওয়ার সম্পর্কও কিছু গবেষণায় পাওয়া গেছে। রসুন রক্তের প্লেটলেটের অতিরিক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব আয়ুর্বেদের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ডা. অনন্যা শর্মা বলেন, আয়ুর্বেদে রসুন ‘রসোনা’ নামে পরিচিত। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তবে রসুনের রক্ত পাতলা করার মতো প্রভাব থাকায় রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণকারীদের নিয়মিত কাঁচা রসুন খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অ্যালিসিন তৈরির জন্য রসুন চটকে বা কুচি করে ৫ থেকে ১০ মিনিট রেখে খাওয়া যেতে পারে। তবে রসুন কোনো ওষুধের বিকল্প নয়। স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র : এনডিটিভি
সময়ের আলো/এমকে