ডিম আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকা সহজলভ্য ও পুষ্টিকর একটি খাবার। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর বা রাতের খাবার— বিভিন্নভাবেই ডিম খাওয়া হয়। বিশেষ করে উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিমের বেশ কদর রয়েছে।
তবে ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এটি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের দ্বিধা রয়েছে। ডিম কি সত্যিই হৃদ্যন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর, নাকি পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে?
ডিমে কী কী পুষ্টি রয়েছে?
ডিমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ হলো এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন। শরীরের পেশি তৈরি ও ক্ষয়পূরণে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত ব্যায়াম করেন এমন ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকাতেও ডিম ভালো একটি প্রোটিনের উৎস হতে পারে।
এ ছাড়া ডিমে ভিটামিন এ, ডি, ই ও বি১২-এর পাশাপাশি ফোলেট ও রিবোফ্লাভিনের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এসব ভিটামিন ও খনিজের বড় একটি অংশ কুসুমে থাকে।
ডিমের কুসুমে কোলিনও রয়েছে, যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
ডিম নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় এর কোলেস্টেরলকে ঘিরে। একটি বড় ডিমের কুসুমে প্রায় ১৮০ থেকে ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকতে পারে। এ কারণে একসময় ডিমকে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মনে করা হতো।
তবে বর্তমানে পুষ্টিবিজ্ঞানে শুধু একটি খাবারে থাকা কোলেস্টেরলের পরিমাণ নয়, বরং একজন মানুষের পুরো খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বেশির ভাগ সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। ডিমের প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে এটি দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে শুধু ডিম খেলেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি হয় না। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ডাল ও গোটা শস্যসহ বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি।
কখন ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হবেন?
ডিমকে একেবারে ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’—কোনো একটি দলে ফেলার সুযোগ নেই। একজনের সামগ্রিক স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপর বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করে।
যাদের এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বেশি, ডায়াবেটিস রয়েছে কিংবা হৃদ্রোগের অন্যান্য ঝুঁকি আছে, তাদের নিয়মিত বেশি পরিমাণে ডিম খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
এ ক্ষেত্রে ডিমের সঙ্গে কী খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। মাখন, ঘি, চর্বিযুক্ত মাংস বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারের সঙ্গে ডিম খেলে পুরো খাবারে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
ডিম যেভাবে খাওয়া ভালো
ডিম সিদ্ধ, পোচ বা অল্প তেলে রান্না করে খাওয়া তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর উপায়। চাইলে একটি গোটা ডিমের সঙ্গে অতিরিক্ত ডিমের সাদা অংশ যোগ করা যেতে পারে। এতে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ে, কিন্তু অতিরিক্ত কুসুম যোগ না হওয়ায় কোলেস্টেরলের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখা। ডিমকে একমাত্র প্রোটিনের উৎস না বানিয়ে মাছ, ডাল, দুধ বা দই, পনির, বাদামসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
তাই সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত ডিম খাওয়াকে অকারণে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। কতটা ডিম খাচ্ছেন, কীভাবে রান্না করছেন এবং পুরো দিনের খাদ্যতালিকা কেমন— স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরিতে মূল গুরুত্ব সেখানেই।
সময়ের আলো/জোই