শিশুর উচ্চতা ঠিকমতো বৃদ্ধি না হলে কী করবেন?

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ওজন ও উচ্চতাও বয়স অনুযায়ী বাড়ছে কি না, সেদিকে অভিভাবকদের নিয়মিত নজর রাখা জরুরি।

2026-09-12T10:59:30+00:00
2026-09-12T11:04:57+00:00
 
  শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফিচার
শিশুর উচ্চতা ঠিকমতো বৃদ্ধি না হলে কী করবেন?
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম  আপডেট: ১২.০৯.২০২৬ ১১:০৪ এএম
প্রতিটি বয়সে শিশুর উচ্চতা ও ওজনের একটি স্বাভাবিক পরিসর থাকে। ছবি : প্রতীকী
শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ওজন ও উচ্চতাও বয়স অনুযায়ী বাড়ছে কি না, সেদিকে অভিভাবকদের নিয়মিত নজর রাখা জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, শিশু ঠিকমতো খেতে চায় না। ফলে, বয়স অনুযায়ী তার ওজন ও উচ্চতা দুটোই কম থাকে। আবার কোনো কোনো শিশুর ওজন বয়সের তুলনায় বেশি হলেও উচ্চতা সেই অনুপাতে বাড়ে না। তাই শিশুর সামগ্রিক শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশের দিকে নজর দিতে হবে।

প্রতিটি বয়সে শিশুর উচ্চতা ও ওজনের একটি স্বাভাবিক পরিসর থাকে। শিশুর বৃদ্ধি সেই পরিসরের মধ্যে রয়েছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গ্রোথ চার্টে শিশুর উচ্চতা ও ওজনের পরিবর্তন নথিভুক্ত করা যেতে পারে। 


ছেলে-মেয়ের উচ্চতা বৃদ্ধির সময় কি আলাদা?

উচ্চতা বৃদ্ধির হার ছেলে ও মেয়েদের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত ছেলেদের বয়ঃসন্ধির সময়, বিশেষ করে প্রায় ১৩ থেকে ১৬ বছর বয়সে উচ্চতা দ্রুত বাড়ে এবং অনেকের ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কিছুটা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রেও বয়ঃসন্ধির সময় উচ্চতা দ্রুত বাড়ে। সাধারণত ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সের মধ্যে উচ্চতা বৃদ্ধির গতি অনেকটাই কমে যায়। ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পর মেয়েদের উচ্চতা বৃদ্ধির হার সাধারণত ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

তবে, শিশুভেদে বয়ঃসন্ধি ও উচ্চতা বৃদ্ধির সময়ে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তাই অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা না করে নিজের সন্তানের বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।


কেন শিশুর উচ্চতা কম হতে পারে?

শিশুর উচ্চতা প্রত্যাশিত হারে না বাড়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই এটি বংশ বা জিনগত কারণে হয়। বাবা-মায়ের উচ্চতা কম হলে সন্তানের উচ্চতাও তুলনামূলক কম হতে পারে।

এ ছাড়া, পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবও শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা দিতে পারে। খাবারে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, জিঙ্কসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকলে হাড় ও শরীরের গঠন ঠিকভাবে বিকশিত নাও হতে পারে। দীর্ঘদিনের অপুষ্টি বা অপর্যাপ্ত খাবারও শিশুর বৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কিছু শারীরিক সমস্যার কারণেও শিশুর বৃদ্ধি ধীর হতে পারে। যেমন : গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগসহ কিছু দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বয়স অনুযায়ী উচ্চতা দীর্ঘদিন ধরে না বাড়লে বা আগের তুলনায় বৃদ্ধির গতি কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


শিশুর বৃদ্ধির জন্য কী করবেন?

শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, দুধ বা দুধজাতীয় খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকা দরকার। শিশুকে জোর করে খাওয়ানোর পরিবর্তে বৈচিত্র্যময় ও পছন্দসই পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

পর্যাপ্ত ঘুমও শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বয়স ও সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার অভ্যাস করা উচিত। এগুলো শিশুর পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্য, শারীরিক সক্ষমতা এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

শিশুর জন্য উপকারী কিছু ব্যায়াম

স্কিপিং
দড়ি লাফানো শিশুদের জন্য ভালো শারীরিক ব্যায়াম। এতে শরীর সক্রিয় থাকে, পায়ের পেশির ব্যায়াম হয় এবং শারীরিক সক্ষমতা বাড়ে। নিয়মিত স্কিপিং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করতে পারে। তবে, শিশুর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী সময় ও পরিমাণ ঠিক করা উচিত।

ঊর্ধ্ব তাড়াসন
ম্যাটের ওপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পায়ের পাতার মধ্যে সামান্য দূরত্ব রাখতে হবে। এরপর দুহাত মাথার ওপর তুলে শরীরকে ধীরে ধীরে ওপরের দিকে প্রসারিত করতে হবে এবং গোড়ালি উঁচু করে পায়ের আঙুলের ওপর ভারসাম্য রাখতে হবে। মাথা সামান্য ওপরের দিকে রেখে ২০–৩০ সেকেন্ড অবস্থান করা যায়। এটি মূলত শরীরের বিভিন্ন অংশে স্ট্রেচ তৈরি করে এবং ভারসাম্য ও নমনীয়তা বাড়াতে সাহায্য করে।

বাটারফ্লাই পোজ
মেঝেতে বসে দুই পায়ের পাতা পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে নিতে হবে। দুহাত দিয়ে পায়ের পাতা ধরে হাঁটু ধীরে ধীরে ওপর-নিচ করতে হবে। শিশু স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী কয়েকবার করতে পারে। এটি কোমর, উরু ও পায়ের পেশির নমনীয়তা বাড়াতে সহায়তা করে।

শশঙ্গাসন
যোগা ম্যাটে হাঁটু গেড়ে বসে পিঠ সোজা রাখতে হবে। এরপর শ্বাস নিতে নিতে দুহাত ওপরের দিকে তুলতে হবে। ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে মাথা মাটির দিকে নামাতে হবে এবং হাত সামনে প্রসারিত করতে হবে। কিছুক্ষণ অবস্থান করে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে হবে। এই ব্যায়াম শরীরের নমনীয়তা ও স্ট্রেচিংয়ের জন্য উপকারী।

তবে মনে রাখতে হবে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যায়াম একাই শিশুর উচ্চতা বাড়ানোর নিশ্চয়তা দেয় না। শিশুর উচ্চতা মূলত জিনগত বৈশিষ্ট্য, পুষ্টি, হরমোন, সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও বিকাশের ওপর নির্ভর করে। তাই সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ- এই সবকিছুর সমন্বয়ই শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   শিশু  উচ্চতা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: