দুর্ঘটনা এড়াতে রান্নাঘরে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ছবি : সংগৃহীত
দেশজুড়ে গ্যাসের সংকটের কারণে অনেকেই রান্নার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছেন। কেউ কেউ এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন, আবার অনেকে গ্যাসের চাপ কম থাকায় নানা উপায়ে রান্নার চেষ্টা করছেন। তবে এমন পরিস্থিতিতে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই মনে রাখা জরুরি।
পাইপলাইনের গ্যাসের চুলায় এলপিজি ব্যবহার করবেন না
দেখতে একইরকম হলেও সব গ্যাসের চুলা একই ধরনের জ্বালানির জন্য তৈরি নয়। পাইপলাইনের গ্যাসের জন্য তৈরি চুলায় সরাসরি এলপিজি সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, দুধরনের গ্যাসের চাপ ও সরবরাহব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এমনকি বার্নারের ছিদ্রের আকারও গ্যাসের ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। তাই যে চুলা যে ধরনের গ্যাসের জন্য তৈরি, সেটিই ব্যবহার করা উচিত।
খাবার ছোট বা মাঝারি আকারে কেটে রান্না করলে তা দ্রুত সিদ্ধ হয়। ছবি : সংগৃহীত
প্রয়োজনের বেশি সিলিন্ডার মজুত করবেন না
গ্যাসের সংকট দেখা দিলে অনেকে ভবিষ্যতের কথা ভেবে একাধিক সিলিন্ডার কিনে ঘরে রেখে দেন। কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত সিলিন্ডার সংরক্ষণ করলে অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী সিলিন্ডার ব্যবহার ও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করাই ভালো।
গ্যাস না থাকলে চুলার নব খোলা রাখবেন না
গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ থাকলে অনেকে চুলার নব খোলা রেখে দেন বা বারবার অন-অফ করেন। এটি বিপজ্জনক হতে পারে। লাইনে হঠাৎ অল্প পরিমাণ গ্যাস এলেও, তা রান্নাঘরে জমে যেতে পারে। পরে আগুন বা বৈদ্যুতিক স্পার্কের সংস্পর্শে এলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই গ্যাস না থাকলে চুলার নব বন্ধ রাখুন।
স্বাভাবিক অবস্থায় গ্যাসের চুলার শিখা নীল থাকার কথা। গ্যাসের চাপ কমে গেলে কিংবা বার্নারে ময়লা জমলে শিখা হলুদ বা কমলা হতে পারে। এটি অপর্যাপ্ত দহন কিংবা গ্যাস ও বাতাসের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের দহনে কার্বন মনোক্সাইড তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই শিখার রং অস্বাভাবিক হলে রান্না বন্ধ রেখে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা উচিত।
একসঙ্গে একাধিক বার্নার জ্বালানোর চেষ্টা করবেন না
গ্যাসের চাপ কম থাকলে একসঙ্গে একাধিক বার্নার চালালে প্রতিটি বার্নারের শিখা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে রান্না দ্রুত শেষ হওয়ার বদলে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। তাই গ্যাসের চাপ কম থাকলে একটি বার্নারে পর্যায়ক্রমে রান্না করাই তুলনামূলকভাবে বেশি ভালো।
রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। দরজা-জানালা খোলা রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এগজোস্ট ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। গ্যাস লিকেজের সন্দেহ হলে কোনো বৈদ্যুতিক সুইচ অন বা অফ করবেন না। লিকেজ পরীক্ষা করার জন্য কখনোই আগুন ব্যবহার করা যাবে না। একইভাবে এলপিজি সিলিন্ডার বহনের সময় সেটি গড়িয়ে নেওয়া উচিত নয়। সিলিন্ডার সব সময় সোজা ও উল্লম্ব অবস্থায় রাখতে হবে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে কিছু অভ্যাস গড়ে তুলুন
গ্যাসের সংকটের সময় কিছু সহজ অভ্যাস জ্বালানি সাশ্রয়ে সহায়তা করতে পারে।
-রান্নার পাত্র ও বার্নার পরিষ্কার রাখলে তাপের অপচয় কমে।
-খাবার ছোট বা মাঝারি আকারে কেটে রান্না করলে তা দ্রুত সিদ্ধ হয়।
-রান্নার সময় পাত্রে ঢাকনা ব্যবহার করলেও তাপ ধরে রাখা যায় এবং গ্যাসের ব্যবহার কমে।
-সম্ভব হলে প্রেশার কুকার বা স্টিম কুকার ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে তুলনামূলক কম সময়ে রান্না শেষ করা সম্ভব এবং জ্বালানিও সাশ্রয় হয়।
-গ্যাসের পরিবর্তে অন্য কোনো জ্বালানি ব্যবহার করতে হলে সেটির নিরাপদ ব্যবহারের নিয়ম আগে জেনে নেওয়া জরুরি।