প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১২ পিএম
পৌর শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে বহুতল ভবন নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ছবি : সময়ের আলোকুড়িগ্রামের উলিপুর পৌর শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে পৌরসভা, আইন ও বিল্ডিং কোড অমান্য এবং সীমানা লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পোস্ট অফিস মোড় সংলগ্ন মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ জামানের স্ত্রী জাহেদা বেগম উলিপুর পৌরসভার প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পৌর কর্তৃপক্ষ বিতর্কিত জমি ও পৌরসভা আইন অমান্য করে নির্মিত দ্বিতল ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ভবন মালিক নির্মাণ কাজ চলমান রেখেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের পোস্ট অফিস সংলগ্ন উলিপুর মৌজার জেএল নং- ১০৮, দাগ নং- ১৬৩, খারিজ খতিয়ান নং- ৩১৫২, জমির পরিমাণ ১২.৫০ শতাংশ এর ০.৬৮ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। উক্ত জমির জবরদখলকৃত ০.৬৮ শতাংশ জমি ফেরত দেওয়ার জন্য ইতঃপূর্বে মাপজোখ ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রশাসন একটি প্রতিবেদনও দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ জামানের জমি জবর দখল করে রাখার অভিযোগ ছিলো, মৃত আব্দুল লতিফ এর পুত্র উলিপুরের বিশিষ্ট মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী জোবায়ের হোসেন গং-এর বিরুদ্ধে। সেসব প্রতিবেদনকে উপেক্ষা করে, সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই জোবায়ের হোসেন পৌরসভার কোনো অনুমোদন ও নকশা ব্যতিরেকে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেন।
পরবর্তীতে, মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ জামানের স্ত্রী জাহেদা বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উলিপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিবাদী জোবায়ের হোসেন গংকে বহুতল ভবনের কাজ বন্ধ রাখার জন্য জরুরি নির্দেশ দেন। যার স্মারক নং- উঃপৌঃ/প্রবিঃ/২০২৬-২৯৯। ওই নোটিশে মূল দলিল ও অনুমোদিত নকশাসহ যাবতীয় কাগজ-পত্রাদি ৭ কার্য দিবসের মধ্যে পৌরসভা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, উক্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত জমিতে যেকোনো প্রকার স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার কড়া নির্দেশ জারি করা হয়। যার অনুলিপি উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কেউ অবগতি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়। জোবায়ের হোসেন কাগজপত্র দাখিলের সময় বৃদ্ধির জন্য গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উলিপুর পৌরসভার প্রশাসক বরাবর একটি আবেদনপত্র দাখিল করেন।
তিনি আবেদনে জানান যে, তার পারিবারিক ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে পৈতৃক মালিকানাধীন জমির মূল দলিলপত্র ও প্ল্যান সংগ্রহে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদতে জোবায়ের হোসেনের নির্মিত ওই দ্বিতল ভবনের পৌরসভা কর্তৃক কোনো অনুমোদন কিংবা নকশা ছিলো না।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সরজমিনে দেখা গেছে, চলতি মাসের ১৮ তারিখ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ টি এম আরিফ স্বাক্ষরিত চিঠির নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জোবায়ের হোসেন দ্বিতল ভবনের উপর তৃতীয় তলার কাজ চলমান রেখেছেন। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পুত্র জায়দুল ইসলাম জানান, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের স্বত্ব দখলীয় জমি দখল করে বিনা নকশায় ভবন নির্মাণ করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা অবিলম্বে পৌরসভার নির্দেশ মেনে অবৈধ নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার এবং বিরোধপূর্ণ জমির সুষ্ঠু সমাধানের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/এনএন