প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ এএম
মেঘের রাজ্যখ্যাত সাজেকের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদার ভাগাভাগি নিয়ে দুই সশস্ত্র সংগঠনের বিরোধে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি : সংগৃহীতমেঘের রাজ্যখ্যাত সাজেকের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদার ভাগাভাগি নিয়ে দুই সশস্ত্র সংগঠনের বিরোধে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। অবরোধ, গুলির ঘটনা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে ধসের মুখে পড়েছে জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রের ব্যবসা।
২০০৮ সালের দিকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সাজেকে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক কটেজ রয়েছে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত মূল পর্যটন মৌসুমে কটেজ, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় পণ্যের ব্যবসায় বিপুল অর্থের লেনদেন হয়।
উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কটেজ মালিকদের আয় প্রায় ৩০ কোটি টাকা। পর্যটকদের যাতায়াত ও ঘোরাঘুরিতেও বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হয়।
স্থানীয় সংবাদকর্মী, বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন সাজেকে আধিপত্য ছিল প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ)।
তবে কয়েক মাস আগে পিসিজেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদার ভাগাভাগিই সংঘাতের অন্যতম কারণ।
ইউপিডিএফের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং পিসিজেএসএসকে সাজেক থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে তাদের ছায়া সংগঠন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর অবরোধ পালন করে। দুর্গাপূজার কারণে কর্মসূচি স্থগিত রাখার পর ২২ অক্টোবর আবার আন্দোলন শুরু হয়। ওই দিন পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার সময় বাধা ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর নয় সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে।
এদিকে অবরোধকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে ইউপিডিএফের আরেক ছায়া সংগঠন ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদ ২৪ অক্টোবর থেকে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে সড়ক ও নৌপথে অর্ধদিবস অবরোধের ডাক দিয়েছে।
পিসিজেএসএসের রাঙামাটি জেলা সভাপতি ডা. গঙ্গা মানিক চাকমা এসব ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ বলেন, মূলত সংগঠন দুটির আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদার ভাগাভাগি নিয়ে এসব ঘটনা ঘটছে। তার আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে সাজেকের পর্যটন খাত আরও বিপর্যস্ত হবে।
রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানিয়েছেন, সাজেকে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।
সময়ের আলো/এমকে