প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম আপডেট: ২৪.১০.২০২৬ ১১:১৮ এএম
গ্যাসের রেকর্ড ঘাটতি নিয়ে শীত মৌসুমে প্রবেশ করছে ইউরোপ। ছবি : সংগৃহীত ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গ্যাসের রেকর্ড ঘাটতি নিয়ে শীত মৌসুমে প্রবেশ করছে ইউরোপ। এতে মহাদেশটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জার্মানির বার্লিনে বুধবার এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাতিহ বিরল বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের কারণে বিশ্বের সব অঞ্চল জ্বালানি সরবরাহের সমস্যায় পড়েছে। তবে ইউরোপের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। উপসাগরীয় অঞ্চলে আজই শান্তি ফিরে এলেও আগামী কয়েক মাসে ইউরোপে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বাড়তে পারে।
ইইউর গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলো বর্তমানে প্রায় ৭২ শতাংশ পূর্ণ। অথচ বছরের এই সময়ে সাধারণত মজুত থাকে প্রায় ৯০ শতাংশ। বিশ্লেষকদের হিসাবে, এই ঘাটতি ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ বাড়িতে জ্বালানি সরবরাহের সমপরিমাণ।
বিরল সতর্ক করে বলেন, শীত তীব্র হলে গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে। চলতি বছর ও আগামী বছর ইউরোপের মানুষের জন্য সহজ হবে না।
এদিকে গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করতে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানানো হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছেন ইইউর জ্বালানিমন্ত্রীরা।
বিরল বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে কী করা হবে, তা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন ছিলেন। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল। এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হরমুজ এড়িয়ে জ্বালানি পরিবহনে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ ও বিদ্যমান পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।
তার মতে, এসব উদ্যোগ আরও আগেই নেওয়া প্রয়োজন ছিল। এখন সরকারগুলো তড়িঘড়ি করে পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সময়ের আলো/এমকে