ছবি : সংগৃহীত ইউরোপের বেশির ভাগ দেশে রোববার (২৫ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে গ্রীষ্মকালীন সময়। এদিন ভোরে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছানো হবে। ফলে রাতে যারা কাজ করেন না, তাঁরা এক ঘণ্টা বেশি ঘুমানোর সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে সকালে আলো কিছুটা আগে ফুটবে, সন্ধ্যায়ও দ্রুত অন্ধকার নামবে।
ইউরোপে প্রতিবছর অক্টোবরের শেষ রোববার গ্রীষ্মকালীন সময় থেকে শীতকালীন সময়ে ফেরার নিয়ম চালু রয়েছে। ২০২৬ সালে ২৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে ঘড়ির কাঁটা স্থানীয় সময় রাত ৩টা থেকে ২টায় ফিরিয়ে আনা হবে—যেসব অঞ্চলে ঘড়ি তখন ৩টা দেখায়। এর মধ্য দিয়ে মধ্য ইউরোপীয় গ্রীষ্মকালীন সময় (সিইএসটি) শেষ হবে এবং মধ্য ইউরোপীয় সময় (সিইটি) শুরু হবে।
পর্তুগাল ও যুক্তরাজ্যেও সময় পরিবর্তন করা হয়। তবে দেশ দুটির সময় ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের অধিকাংশ দেশের তুলনায় এক ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে এ বছরের ডে-লাইট সেভিং টাইম শেষ হবে ১ নভেম্বর। অন্যদিকে মরক্কো, থাইল্যান্ড, জাপান, আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে নিয়মিতভাবে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা বদলানো হয় না।
জ্বালানি সাশ্রয়ের যুক্তিতে শুরু
ইউরোপে মৌসুমি সময় পরিবর্তনের প্রচলন জোরালো হয় জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে। ১৯৭৬ সালে ফ্রান্স গ্রীষ্মকালীন সময় চালু করে। পরে ১৯৮০ সালে পশ্চিম জার্মানি ও ইউরোপের অন্য দেশগুলোও সময়ের সমন্বয়ে একই পথে হাঁটে। মূল লক্ষ্য ছিল দিনের আলো বেশি কাজে লাগিয়ে জ্বালানি সাশ্রয় করা।
তবে বর্তমানে এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা বদলানোর ফলে মানুষের দৈনন্দিন রুটিন, ঘুম ও কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে। ফলে ইউরোপজুড়ে এ প্রথা বাতিলের দাবি দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।
সময় পরিবর্তন বন্ধ চান ইউরোপীয়রা
২০১৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে পরিচালিত এক জনমত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৪ শতাংশ বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তন বন্ধের পক্ষে মত দেন। পরের বছর ইউরোপীয় পার্লামেন্টেও এ প্রথা বাতিলের প্রস্তাব ব্যাপক সমর্থন পায়।
২০১৯ সালে প্রস্তাবটির পক্ষে ৪১০ ভোট এবং বিপক্ষে ১৯২ ভোট পড়ে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে মৌসুমি সময় পরিবর্তন বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো স্থায়ীভাবে গ্রীষ্মকালীন সময়, নাকি শীতকালীন সময় অনুসরণ করবে—সে বিষয়ে একমত হতে পারেনি। ফলে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।
এ ছাড়া একেক দেশে একেক সময়ব্যবস্থা চালু হলে পরিবহন, বাণিজ্য ও আন্তদেশীয় কার্যক্রমে সমন্বয়জনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর ইউরোপীয় রাজনীতিতে অন্য বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পাওয়ায় সময় পরিবর্তন বন্ধের আলোচনা আরও পিছিয়ে যায়।
কবে বন্ধ হবে ঘড়ির কাঁটা বদলানো?
ঘড়ির সময় পরিবর্তন বন্ধে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সমর্থন থাকলেও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় প্রস্তাবটি কার্যকর হয়নি। স্থায়ীভাবে কোন সময় অনুসরণ করা হবে, তা নিয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়ম চালু থাকার কথা।
তাই অদূর ভবিষ্যতে ইউরোপে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা বদলানোর প্রথা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অক্টোবরের শেষে সময় এক ঘণ্টা পেছানো এবং বসন্তে আবার এক ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়ার নিয়ম বহাল থাকবে।
সূত্র : ইউরো নিউজ
সময়ের আলো/জেডি