প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
সংগৃহীত ছবিঢাকা থেকে লঞ্চযোগে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া সোহেল ব্যাপারী (২৪) নামে যুবকের মরদেহ পাঁচদিন পর বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীর চরশাওড়া থেকে উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ । এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু রবিউল ইসলামকে আটক করেছে সখীপুর থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর), রাত ১টার দিকে উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের অরাকুল এলাকার মেঘনা নদীর মান্দারখাল নামক চর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় ।
নিহত সোহেল ব্যাপারী শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার ৬ নং ওয়ার্ডের আরব আলী কান্দী এলাকার মৃত আনোয়ার হোসেন ব্যাপারীর ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর বন্ধু রবিউল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে শরীয়তপুরের সখিপুর থানাধীন নরসিংহপুর ফেরিঘাট থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় যান সোহেল ব্যাপারী । পরদিন ১৮ অক্টোবর রাতে বন্ধু রবিউলের সঙ্গে লঞ্চযোগে ঢাকা থেকে নরসিংহপুর ফেরিঘাটের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
ফেরার পথে চাঁদপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন সোহেল । এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
এ ঘটনায় গত ১৯ অক্টোবর নিখোঁজ যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে চাঁদপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। যার নম্বর ১১৪৬। বিষয়টি পরবর্তী সময়ে চাঁদপুর অঞ্চলের আলুবাজার নৌপুলিশ ফাঁড়িতে তদন্তাধীন ছিল।
এদিকে, ২৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন অরাকুল এলাকার মেঘনা নদীর মান্দারখাল চরে সোহেলের মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাদা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় নিখোঁজ যুবকের বড়ো ভাই আজিজুল ইসলাম (২৭) ও উপস্থিত নিকটাত্মীয়রা মরদেহটি সোহেল ব্যাপারীর বলে শনাক্ত করেন।
পরে নৌপুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
হিজলা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এছিনুল হক জানান, লঞ্চ থেকে সোহেলের নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে ।
সময়ের আলো/এনএন