হিমকন্যা পঞ্চগড়ে তাপমাত্রার পারদ নামল ১৭ ডিগ্রিতে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

সারাদেশ

ক্যালেন্ডারের পাতায় কার্তিক মাস। প্রকৃতির মানচিত্রে এখন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার দাপট। উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে থাকায়

2026-10-25T08:51:16+00:00
2026-10-25T08:51:16+00:00
 
  রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
হিমকন্যা পঞ্চগড়ে তাপমাত্রার পারদ নামল ১৭ ডিগ্রিতে
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫১ এএম 
কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার দাপটে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। ছবি : সময়ের আলো
ক্যালেন্ডারের পাতায় কার্তিক মাস। প্রকৃতির মানচিত্রে এখন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার দাপট। উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে থাকায় দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে শীত। 

রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে উত্তরের এই জনপদে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ অঞ্চলের শীতের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, রোববার ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও এর আগের দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৮ ডিগ্রি। অর্থাৎ দিনের বেলা তপ্ত রোদ থাকলেও মধ্যরাতের পর থেকেই পাল্টে যাচ্ছে আবহাওয়া। দ্রুত তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জনজীবনে শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখন আর রাতে ফ্যান চালানো যাচ্ছে না। মধ্যরাতের পর হালকা কাঁথা কিংবা পাতলা কম্বল শরীরে জড়াতে হচ্ছে। ভোরের আকাশে মেঘের বদলে এখন কুয়াশার ওড়াউড়ি আর ঘাসের ডগায় মুক্তার মতো জমে থাকা শিশিরবিন্দু জানান দিচ্ছে—শীত খুব কাছেই। ভোরবেলা উত্তরের যে হিমেল হাওয়া বইছে, তা শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছে।


কেন পঞ্চগড়ে আগেভাগেই শীত? ভৌগোলিক কারণে পঞ্চগড়কে বলা হয় বাংলাদেশের ‘শীতের রাজধানী’। তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট থেকে আকাশপথে হিমালয়ের পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার। আর ভারতের শিলিগুড়ি মাত্র ১০ ও দার্জিলিং ৫৮ কিলোমিটার দূরে। হিমালয় ও মেঘালয়ের পাহাড় থেকে ধেয়ে আসা হিমেল বায়ু সবার আগে এই জেলাতেই প্রবেশ করে। আবহাওয়াবিদদের মতে, কাশ্মীর ও দিল্লির অতি শীতের একটি অংশ পশ্চিমবঙ্গ হয়ে পঞ্চগড় দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। যার ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখানে শীতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব সবসময়ই বেশি থাকে।

স্মৃতি হাতড়ালে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমেছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে পাথর শ্রমিকদের নদীতে নামতে দেখা গেছে হালকা গরম কাপড় গায়ে দিয়ে। চা শ্রমিকেরা শিশিরভেজা পাতায় হাত রাখছেন শীতের পরশ নিয়ে। খেটে খাওয়া মানুষের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে আগেভাগেই। 

তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুচক্রের চিরচেনা ব্যাকরণ বদলে যাচ্ছে। এবার বর্ষা মৌসুমেও কুয়াশা দেখা গেছে, যা ছিল বেশ অস্বাভাবিক।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, মৌসুমি বায়ুর নিষ্ক্রিয়তার কারণে এ অঞ্চলে শীতের আবহ তৈরি হয়েছে। ভোরে কুয়াশা দেখা দিলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে যাচ্ছে। আজ তাপমাত্রা ১৭ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে নেমেছে। এখন থেকে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে আরও কমবে, যা মূলত শীতের বার্তা।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   হিমকন্যা পঞ্চগড়  তাপমাত্রা  ১৭ ডিগ্রি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: