বোয়ালখালীর বিহারে বিহারে নানা আয়োজন প্রবারণা পূর্ণিমা। ছবি : সময়ের আলোবৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা আজ রোববার (২৫ অক্টোবর)। এ উপলক্ষে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, সংঘদান, ধর্মীয় আলোচনা, প্রদীপ প্রজ্বালন ও সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে দিনটি। আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হবে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব।
‘প্রবারণা’ শব্দের অর্থ অসত্য ও অকুশল কর্ম বর্জন করে সত্য ও কুশল কর্মকে বরণ করা। ‘আশ্বিনী পূর্ণিমা’ নামেও পরিচিত এ তিথি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাব্রত সমাপ্তির সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কিত।
বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাব্রত পালন করেন। এ সময় তারা বিহারে অবস্থান করেন। বর্ষাব্রত শেষে প্রবারণা পূর্ণিমায় ভিক্ষুরা নিজেদের ভুলভ্রান্তির জন্য পরস্পরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এর মধ্য দিয়ে ভিক্ষুসংঘের মধ্যে সম্প্রীতি ও কল্যাণের চর্চা হয়।
প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে পরবর্তী এক মাস, অর্থাৎ কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়। বর্ষাবাস সম্পন্নকারী ভিক্ষুরা এ সময় কঠিন চীবর গ্রহণ করেন।
প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বোয়ালখালীর বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষুসংঘের প্রাতরাশ, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, অষ্টপরিষ্কারসহ মহাসংঘদান, পিণ্ডদান, ধর্মীয় আলোচনা সভা, পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ, প্রদীপ পূজা ও আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি বৌদ্ধমূর্তি দান ও হাজার বাতি দানসহ নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় বর্ণাঢ্য ফানুস উৎসবের মধ্য দিয়ে দিনের আয়োজন শেষ হবে।
উপজেলার গোমদণ্ডী জ্ঞানোদয় বিহার, কধুরখীল জ্ঞানোদয় বিহার, কধুরখীল মারজিন বিহার, জ্যৈষ্ঠপুরা শাক্যমুনি বিহার, আহলা কড়লডেঙ্গা বৈদ্যপাড়া সার্বজনীন বৌদ্ধবিহার, বৈদ্যপাড়া বোধিদ্রুম বিহার, বৈদ্যপাড়া শাক্যমুণি বিহার, কড়লডেঙ্গা গৌতমমুণি বিহার, কড়লডেঙ্গা বোধি বিহার, জ্যৈষ্ঠপুরা শান্তিময় বিহার, জ্যৈষ্ঠপুরা শরণংকর বিহার, দক্ষিণ জ্যৈষ্ঠপুরা কেন্দ্রীয় বৈশালী বিহার ও দক্ষিণ জ্যৈষ্ঠপুরা অতীশ দীপংকর বিহারে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এ ছাড়া শ্রীপুর আমুচিয়া বোধিসত্ত্ব বিহার, শ্রীপুর আমুচিয়া আদি শাক্যমুণি বিহার, শ্রীপুর আমুচিয়া মৈত্রী বিহার, খরণদ্বীপ আর্যবোধি বিহার, খরণদ্বীপ তথাগত বিহার, চরণদ্বীপ জ্ঞানাঙ্কুর বিহার, হাজারীচর জ্ঞানাঙ্কুর বিহার, শাকপুরা লালচাঁদ বিহার, শাকপুরা প্রজ্ঞাবংশ বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র, শাকপুরা তপোবন বিহার, শাকপুরা ধর্মানন্দ বিহার ও সারোয়াতলী ত্রিরত্ন বিহারসহ উপজেলার সব বৌদ্ধবিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে ধর্মীয় আয়োজন করা হয়েছে।
বোয়ালখালী সম্মিলিত বৌদ্ধ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা অধীর বড়ুয়া বলেন, বুদ্ধের কেশধাতুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানো হয়। এ আয়োজন ঘিরে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়।
প্রবারণা পূর্ণিমার তিথি আজ দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে শুরু হয়ে আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১১ মিনিটে শেষ হবে। আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে শুরু হবে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব।
সময়ের আলো/জোই