প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৯ পিএম আপডেট: ২৫.১০.২০২৬ ৩:৪১ পিএম
সংগৃহীত ছবি সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের উপর সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। রাত ৯টায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন (তিস্তা ২)- এর সহকারী পরিচালক (এডি-অবস) কারিমুল ইসলাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের প্রায় দেড় শ গজ ভেতরে বাংলাদেশ অংশে এসে বাংলাদেশিদের উপর চড়াও হয়। এ সময় স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া দিলে বিএসএফ সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
বিজিবি ও স্থানীয়রা জানায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৭-এর উপপিলার ৪ নম্বরের একদিকে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্ত এলাকা। অপরদিকে ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার চ্যাংড়াবান্ধার বিএস বাড়ি সীমান্ত এলাকা।
শনিবার বিকেলে ওই এলাকা হয়ে প্রবাহিত সানিয়াজান নদীর সীমান্ত লাগোয়া অংশে অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর ও বালু উত্তোলন করতে থাকে বাংলাদেশি কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএসবাড়ি ক্যাম্পের টহল দলের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন সদস্য নদীতে নেমে শ্রমিকদের উপর চড়াও হয়ে মারপিট করার চেষ্টা করতে থাকে। শ্রমিকদের চিৎকারে স্থানীয় এলাকাবাসী ১৫ থেকে ২০ জন একজোট হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফ সদস্যদেরকে প্রতিরোধ করতে থাকে। এতে বিএসএফ সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ও দ্রুত নদী পার হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়।
এতে কেউ হতাহত না হলেও এ ঘটনায় ওই এলাকার সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনা জানার পরপরই বুড়িমারী কোম্পানি সদরের বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সন্ধ্যায় ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে সংক্ষিপ্ত পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ সদস্যের সীমান্ত অতিক্রম ও গ্রেনেড নিক্ষেপের প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। এ সময় বিএসএফ সীমান্ত অতিক্রম এবং গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা অস্বীকার করে।
রংপুর ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)-এর সহকারী পরিচালক (এডি-অবস) কারিমুল ইসলাম বলেন, পাথর তোলার সময় বিএসএফ বাধা দিয়েছে। এ সময় ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটলে বিএসএফের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াতে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে ভয় দেখানোর জন্য। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আমরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রটেস্ট নোট (প্রতিবাদপত্র) দিয়েছি।
সময়ের আলো/জোই