মোবাইলের আলোতে কবর খুড়ছেন মেয়ে এবং বোন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশ

এ যেন প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের 'কোথাও কেউ নেই 'নাটকের শেষ দৃশ্যের মত।ছবিতে দেখা যাচ্ছে রাতের আঁধারে মোবাইলের আলো

2026-10-25T16:25:03+00:00
2026-10-25T16:25:03+00:00
 
  রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
কোথাও কেউ নেই
মোবাইলের আলোতে কবর খুড়ছেন মেয়ে এবং বোন
সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীর দাফন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৫ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
এ যেন প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের 'কোথাও কেউ নেই 'নাটকের শেষ  দৃশ্যের মত।ছবিতে দেখা যাচ্ছে রাতের আঁধারে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে কবর খুঁড়ছেন মেয়ে এবং বোন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা  ও পিরোজপুর -১  আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধে মামলা দায়েরের বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর অন্তিম যাত্রা টা ছিল এ রকম।

মানিক পশারীর করা মামলাতেই দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় হয়েছিল।এ নিয়ে স্থানীয় জামাত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মানিক পশারীর প্রতি একটা ক্ষোভ  ছিল। তাদের দাবি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী কোনোভাবেই রাজাকার ছিলেন না, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশি-বিদেশী চক্রান্তের কারণে তাকে এই  ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছিল। 

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, মানিক পশারীর মরদেহ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে গতকালক শনিবার বারোটায় পিরোজপুর নিয়ে আসা হয়।এ সময় সদর উপলক্ষে চত্বরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দিতে গেলে জামাত নেতা কর্মীদের বাধার সম্মুখীন হয়। পরে বিকাল পাঁচটায় পুলিশ লাইনসে মধ্যে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গার্ড অব অনার্স সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু রাত দশটা পর্যন্ত জামাতের নেতাকর্মীরা পুলিশ লাইনসের সামনে অবস্থান নেয়। এবং  দাফনের জন্য তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে বাধা প্রদান করে। পরবর্তীতে প্রশাসনের সাথে জামাত নেতাদের আলোচনার মাধ্যমে এর এর সুরাহা হয়।

রাত দেড়টার দিকে পুলিশি নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় মানিক পশারীর মরদেহ  সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।

মানিক পশারীর ছোট বোন মোছাম্মৎ রিনা আক্তার বলেন, আমার ভাই মারা যাওয়ার পরে তার দাফন নিয়ে আমরা বিপাকে পরি।তবে প্রশাসন সহ সকলের সহযোগিতায় আজ রাত (শনিবার) দেড়টার দিকে আমার ভাইকে দাফন  দিতে সক্ষম হই। 

এর আগে গতকাল শনিবার পিরোজপুর জেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক জানান, মানিক পশারী একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তাকে কোনোভাবেই গার্ড ওনার দিতে দেয়া হবে না। পিরোজপুরের মাটিতে মানিক পশরীর লাশ দাফন দিতে দেয়া হবে না।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন বলেন, মানিক পশারী গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা ঠিকই । তবে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকারের প্ররোচনায় তিনি একটি ভুয়া  মামলা করেছিলেন। দেলোয়ার হোসেন সাঈদী কোনোভাবেই রাজাকার ছিলেন না। মামলা চলাকালীন সময়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষে ঢাকায় গিয়ে সাক্ষী দিয়ে এসেছিলাম। 

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন,পরিস্থিতি বুঝে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  নিয়েছি। যে কারণে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।তিনি আরো বলেন, তার কবর পাহাড়ায় পুলিশের টহল টিম কাজ করছে। 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মানিক পশারী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শনিবার সকাল দশটায় তিনি সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। 

২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর থানায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন মানিক পশারী। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
‎‎
সময়ের আলো/টিকে
  বিষয়:   কোথাও কেউ নেই  মোবাইলের আলো  কবর খুড়ছেন মেয়ে এবং বোন  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: