কলার মোচা বিক্রি করে জীবিকার লড়াই

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বয়স ৬৫ পেরিয়েছে। শরীরে বয়সের ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু থেমে নেই জীবন সংগ্রাম। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের কিশোরপুর গ্রামের মজিবর

2026-10-25T22:17:09+00:00
2026-10-25T22:17:09+00:00
 
  রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
কলার মোচা বিক্রি করে জীবিকার লড়াই
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম 
মজিবর রহমান গত ২০ বছর ধরে কলার মোচা ও শাকসবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ছবি : সময়ের আলো
বয়স ৬৫ পেরিয়েছে। শরীরে বয়সের ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু থেমে নেই জীবন সংগ্রাম। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের কিশোরপুর গ্রামের মজিবর রহমান গত ২০ বছর ধরে কলার মোচা ও শাকসবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নিজের সংগ্রহ করা টাটকা কলার মোচা ও শাকসবজি সংগ্রহ করেন। বিকেলে তা নিয়ে বের হন উলিপুর, থেতরাই ও বাকরের হাট-বাজারে। এলাকায় তার কলার মোচার বেশ চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে প্রতি পিস বিচি কলার মোচা ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। ক্রেতারা তার সততা ও ভালো ব্যবহারের জন্য তার কাছ থেকেই কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

জীবনে অনেক ঝড় বয়ে গেছে মজিবর রহমানের ওপর দিয়ে। দুই ছেলেকে হারিয়েছেন অকালে। স্ত্রী সহিদা বেগমের (৫৫) সঙ্গে তার সংসার।

একমাত্র মেয়ে মহসিনা বেগমের বিয়ে হয়েছিল থেতরাইয়ে। বিয়ের পর তার কোলজুড়ে আসে এক কন্যা সন্তান, নাম রাখা হয় জান্নাতি। কিছুদিন পর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায় মহসিনার। তখন মেয়ে জান্নাতিকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।

মজিবর রহমান নাতনিকে নিজের কাছে রেখে মেয়েকে দ্বিতীয়বার বিয়ে দেন দিনাজপুরে। সেখানেও তার কোলে আসে আরেকটি কন্যা শিশু, নাম রাখা হয় কুলসুম। একটু বড়ো হওয়ার পর নাতনি কুলসুমকেও নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন মজিবর।

বর্তমানে দুই নাতনি জান্নাতি ও কুলসুম এবং স্ত্রী সহিদা বেগমকে নিয়ে চারজনের সংসার মজিবর রহমানের। পাঁচ শতাংশ বাড়ির ভিটা ছাড়া তার আর কোনো আবাদি জমি নেই। এই চারজনের পুরো সংসারটাই চলছে তার কলার মোচা বিক্রির আয়ে।

অভাব থাকলেও কারো কাছে হাত পাতেননি কখনো। নিজের শ্রমকেই পুঁজি করে বাঁচতে চান তিনি।

মজিবর রহমান বলেন, পরিশ্রম করলে আল্লাহ্ চালায়। কারো কাছে হাত পাততে হয় না। যতদিন শরীরে শক্তি আছে, এই কাজ করেই খাব।

স্থানীয়রা জানান, মজিবর রহমান একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও তিনি কারো বোঝা হয়ে থাকতে চান না। তার এই আত্মনির্ভরশীলতা তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা।

থেতরাই ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, মজিবর রহমান আমাদের ইউনিয়নের একজন অত্যন্ত সৎ, পরিশ্রমী ও আত্মমর্যাদাশীল মানুষ। এই বয়সেও তিনি কারো কাছে হাত না পেতে নিজের কষ্টার্জিত শ্রম দিয়ে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। পাঁচ শতাংশ ভিটা ছাড়া কিছু না থাকার পরেও দুই নাতনিকে নিয়ে তার যে লড়াই, তা আমাদের সবার জন্য, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড়ো অনুপ্রেরণা।

সময়ের আলো/এনএন
  বিষয়:   কলার মোচা বিক্রি  জীবিকার লড়াই  উলিপুর  কুড়িগ্রাম  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: