যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। সংগৃহীত ছবি মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। রোববার তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটর পদে এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। এ আসনে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্রেটিক পার্টির এই মুসলিম প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানান ওবামা।
শনিবার ডেট্রয়েটের ক্যাস টেকনিক্যাল হাই স্কুলে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ সমর্থকের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সমাবেশে এল-সাইয়েদের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানান সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খবর সিএনএনের।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ওবামা বলেন, আবদুল প্রকৃত পরিবর্তনের লক্ষ্যে লড়াই করছেন। এমন পরিবর্তন, যা চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে এল-সাইয়েদের প্রস্তাবেরও প্রশংসা করেন তিনি।
ওবামা বলেন, ২০১০ সালে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের মাধ্যমে ‘আমরা যে কাজ শুরু করেছিলাম’, এই প্রার্থী তা সম্পন্ন করবেন।
এদিকে এল-সাইয়েদের ধর্মীয় পরিচয় এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তার কথিত সম্পর্ক নিয়ে রিপাবলিকানদের আক্রমণের বিরোধিতা করেন ওবামা। এল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এখন পর্যন্ত এ ধরনের সম্পর্কের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণও সামনে আসেনি।
ওবামা জানান, ২০০৭ ও ২০১১ সালে নিজের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারের সময় তার পরিচয় ও ধর্ম নিয়ে যেসব মিথ্যা দাবি ছড়ানো হয়েছিল, এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে চালানো আক্রমণের সঙ্গে সেগুলোর মিল রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ওবামা বলেন, ‘এই সিনেমা আমরা আগেও দেখেছি। আমি নিজেই তাতে মূল অভিনেতা ছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসব আমার ক্ষেত্রে কাজ করেনি। মিশিগানে আবদুলের ক্ষেত্রেও এগুলো কাজ করবে না।’
মিশিগানের পাশাপাশি শনিবার ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডেও নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেন ওবামা। দুই সমাবেশেই বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বক্তব্যে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করেন ওবামা। ক্লিভল্যান্ডের সমাবেশে তিনি বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ধারাবাহিকভাবে একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করেছেন, যা কেউ চায়নি।
ওবামা আরও বলেন, গত দুই বছরে দেশে এমন বিশৃঙ্খলা, নিষ্ঠুরতা, দুর্নীতি ও অযোগ্যতা দেখা গেছে, যা আধুনিক যুগে নজিরবিহীন। এখন জনগণের সামনে সুযোগ এসেছে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার।
তিনি বলেন, ‘এখন আপনাদের সামনে সুযোগ এসেছে বলার— আর নয়, যথেষ্ট হয়েছে। আমরা এই ওহাইয়োতেই পরিবর্তন আনার জন্য ভোট দিচ্ছি।’
সময়ের আলো/ইউএমএইচ