ছবি : সংগৃহীত ঢাকার মোহাম্মদপুরে এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) দুজন সদস্য এবং আনসারের একজন সদস্য রয়েছেন। শনিবার রাতে শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন— ডিজিএফআই সদর দফতরের সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯), একই সংস্থার ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান (৩১), আনসার সদস্য সোহেল রানা (৩২), একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী (২৬), নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মাহফুজুর রহমান (২২) এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার জিয়াউল ইসলাম (৩৫)। এ মামলায় সোনিয়া (৩০) ও ফনিরুল ওরফে মনিরুল (৪৫) নামে আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর ছয়জনকে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। পরে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ তাদের আদালতে পাঠায়। ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আশরাফুল হক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলাটি করেছেন শ্যামলীর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফ। এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, পাশাপাশি বাসা হওয়ার সুবাদে আনসার সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। শনিবার মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে সোহেল তাকে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে সোনিয়া নামে এক নারীকে নিজের বোন বলে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।
এজাহারে শরীফ অভিযোগ করেন, কিছুক্ষণ পর বারুমে যাওয়ার কথা বলে সোহেল ঘর থেকে বেরিয়ে যান। এরপর মামলার অন্য আসামিরা সেখানে এসে তাকে মারধর করেন এবং ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে তিনি আসামিদের ৭০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু এতে তারা সন্তুষ্ট না হয়ে আবারও তাকে মারধর করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় তাকে ওই বাসায় আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, রাত ৩টার দিকে আসামিরা শরীফকে ওই বাসা থেকে নামিয়ে একটি টয়োটা গাড়িতে তোলেন। পরে গাড়িটি শেরেবাংলা নগরে শিশু হাসপাতালের বিপরীতে রেখে তারা চা পান করতে যান। এ সময় শরীফ পুলিশের একটি গাড়ি দেখতে পেয়ে দৌড়ে গিয়ে সহায়তা চান। গাড়িটি ছিল শেরেবাংলা নগর থানার টহল দলের। পরে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করে।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, শিশু হাসপাতালের কাছে আমাদের চেকপোস্ট ছিল। সেখানে ওই ব্যবসায়ী আমাদের সহায়তা চাইলে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে তাদের গ্রেফতার করে গাড়িসহ মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যকে নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে সেনাসদর থেকে কর্মকর্তারা থানায় এসে বিষয়টি যাচাই করেন। এরপর তাদেরও মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে চাননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা মামলার এজাহার অনুযায়ী ঘটনার বিবরণ জানান।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে