প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১০ এএম
‘জিনলিয়ান ইলেক্ট্রনিক্স টেকনোলজি বাংলাদেশ লিমিটেড’ কারখানায় অগ্নিকাণ্ড। ছবি : সময়ের আলোঢাকার ধামরাইয়ে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে আলোচনায় আসা ‘জিনলিয়ান ইলেক্ট্রনিক্স টেকনোলজি বাংলাদেশ লিমিটেড’ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কারখানার এক চীনা নাগরিক আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের নবগ্রাম এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নেভায়।
ধামরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত ১০টা ৫০ মিনিটে সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে তারা। রাত ১১টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে তদন্তের পর আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জিনলিয়ান ইলেক্ট্রনিক্স টেকনোলজি বাংলাদেশ লিমিটেড লিথিয়াম ব্যাটারি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত। গত ১৭ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালায় ঢাকার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (পশ্চিম)। ওই অভিযানে ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৫৩ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটনের কথা জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রকাশিত এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানের সময় কারখানায় তৈরি ব্যাটারির পাশাপাশি ব্যাটারি তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া সেখানে আমদানি করা মোবাইল চার্জার, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হেডফোন ও ব্লুটুথ হেডফোনও ছিল। প্রাথমিকভাবে ভ্যাট ফাঁকির সন্দেহ হওয়ায় অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির দলিলপত্র জব্দ করা হয়।
জব্দ করা নথিপত্র পর্যালোচনা করে এনবিআর জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ১৮ হাজার ৫০৭ টাকার বিক্রির তথ্য গোপন করেছে। এতে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯২ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে উঠে আসে।
এ ছাড়া ১৫ কোটি ২২ লাখ ৮ হাজার ৭৭৫ টাকার পণ্য ও কাঁচামাল কেনার তথ্য গোপন করায় আরও ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৭ হাজার ১৬১ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৫৩ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগের কথা জানায় এনবিআর।
সময়ের আলো/জোই