প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৭ পিএম আপডেট: ২৬.১০.২০২৬ ৯:১৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় আলোচনার মধ্যে সামনে এসেছে সৌদি আরবে পশ্চিমবঙ্গের এক যুবকের কারাবন্দি থাকার খবর। পরিবারের দাবি, মক্কায় দুই বাংলাদেশির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ২০২৩ সাল থেকে সৌদি আরবের কারাগারে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের সাহাবুদ্দিন শেখ।
সাহাবুদ্দিন পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক এই যুবক প্রায় আট বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় দুই বাংলাদেশির একটি ভিডিও ধারণের ঘটনা ঘটে। সে সময় সেখানে উপস্থিত এক পাকিস্তানি যুবক সাহাবুদ্দিনের মুঠোফোন ব্যবহার করে দৃশ্যটি ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সাহাবুদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাহাবুদ্দিনের মা কোহিনুর বিবির দাবি, তার ছেলে পরিবারকে জানিয়েছিলেন, নিছক মজা করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি প্রকাশ করেছিলেন। এর পরিণতি এত গুরুতর হতে পারে, তা তারা ভাবতে পারেননি। ছেলের দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে পরিবারের।
কোহিনুর বিবি জানান, সৌদি আরবে তার ছেলে ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার পাঠানো অর্থেই সংসার চলত। এখন ছেলের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে তার।
সাহাবুদ্দিনকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। তবে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে তাদের দাবি।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একটি মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে ‘অনৈতিক কাজে’ লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে তাঁদের দণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি, তার মামলার বর্তমান অবস্থা এবং সম্ভাব্য দণ্ড সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
সময়ের আলো/কেএইচও