ছবি : সংগৃহীত একসময় ঘড়ি পরার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সময় দেখা। হাতে একটি ঘড়ি থাকলেই কখন অফিসে যেতে হবে, কখন ক্লাস শুরু হবে কিংবা কখন নির্ধারিত কাজটি করতে হবে, তা সহজেই জানা যেত। সময়ের সঙ্গে বদলেছে মানুষের জীবনযাপন, প্রযুক্তি ও ফ্যাশন ভাবনা। এখন ঘড়ি কেবল সময় জানার যন্ত্র নয়, বরং ব্যক্তিত্ব, রুচি ও স্টাইল প্রকাশের অন্যতম অনুষঙ্গ।
প্রয়োজন থেকে ফ্যাশন
ঘড়ির ইতিহাস বেশ পুরোনো। পকেটঘড়ি থেকে হাতঘড়ির প্রচলন, সবকিছুর পেছনেই ছিল সময়কে সহজে জানার প্রয়োজন। একসময় পুরুষদের পোশাকের সঙ্গে পকেটঘড়ি ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। পরে হাতঘড়ি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে নারী-পুরুষ উভয়ের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে ঘড়ির নকশা ও ব্যবহারিক দিকটিই ছিল মূল বিবেচ্য। তবে আধুনিক ফ্যাশনে ঘড়ির ভূমিকা অনেকটাই বদলে গেছে। পোশাকের রং, জুতা, ব্যাগ কিংবা গয়নার সঙ্গে মিলিয়ে ঘড়ি বেছে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।
নকশায় বৈচিত্র্য, স্টাইলেও নতুনত্ব
বর্তমানে বাজারে ঘড়ির নকশায় রয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। চামড়ার বেল্টের ঘড়ি আনে মার্জিত ও রুচিশীল ভাব। অন্যদিকে সোনালি, রুপালি কিংবা রোজ গোল্ড রঙের মেটাল স্ট্র্যাপের ঘড়ি পোশাকে যোগ করে আভিজাত্য। যারা একটু ভিন্নধর্মী সাজ পছন্দ করেন, তাদের জন্য রয়েছে রঙিন ডায়াল, জ্যামিতিক নকশা ও মিনিমাল ডিজাইনের ঘড়ি। নারীদের ফ্যাশনে ঘড়ির সঙ্গে অলংকারের মেলবন্ধন বিশেষভাবে লক্ষণীয়। চিকন চেইনের মতো স্ট্র্যাপ, পাথর বসানো ডায়াল, মুক্তার ছোঁয়া কিংবা ব্রেসলেটের আদলে তৈরি ঘড়ি সাজে নিয়ে আসে ভিন্নমাত্রা। পুরুষদের ফ্যাশনেও ঘড়ির গুরুত্ব কম নয়। ফরমাল পোশাকের সঙ্গে সাদামাটা ডায়ালের ঘড়ি যেমন মানানসই, তেমনি টিশার্ট, জিনস কিংবা ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে স্পোর্টি ডিজাইনের ঘড়ি বেশ আকর্ষণীয়।
ব্রেসলেট যখন ঘড়ি
ঘড়ির ফ্যাশনে নতুনত্ব এনেছে ব্রেসলেট ঘড়ি। দেখতে অনেকটা অলংকারের মতো হলেও এতে রয়েছে সময় দেখার ব্যবস্থা। সাধারণ ব্রেসলেটের সঙ্গে ঘড়ির কার্যকারিতা যুক্ত হওয়ায় এটি হয়ে উঠেছে ফ্যাশনসচেতন মানুষের পছন্দের অনুষঙ্গ। বিশেষ করে যারা ভারী বা বড় ডায়ালের ঘড়ি পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাদের কাছে এ ধরনের নকশা আকর্ষণীয়। কিছু ব্রেসলেট ঘড়িতে থাকে সরু চেইন, ছোট ডায়াল কিংবা পাথর বসানো অলংকারের নকশা। ফলে আলাদা করে ব্রেসলেট না পরেও হাতকে সাজিয়ে তোলা যায়।
সময় দেখা যখন আংটিতে
ঘড়ির ফ্যাশন এখন হাতের কব্জিতে সীমাবদ্ধ নেই। বাজারে এমন কিছু রিং-ওয়াচ বা আংটি-ঘড়ি পাওয়া যায়, যেগুলো আঙুলে পরা যায় এবং ছোট ডিসপ্লের মাধ্যমে সময় দেখায়। প্রচলিত ঘড়ির তুলনায় এগুলোর আকার ছোট, নকশায় ভিন্নতা রয়েছে। প্রযুক্তি ও অলংকারের এই সমন্বয় ফ্যাশনে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এ ধরনের ঘড়ি বিশেষ করে ব্যতিক্রমী নকশা পছন্দ করেন এমন মানুষের নজর কাড়ে। তবে সব রিং-ওয়াচের ব্যবহার, সুবিধা ও স্থায়িত্ব এক রকম নয়। কেনার আগে ডিসপ্লে, ব্যাটারি, আকার এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সময় দেখার প্রয়োজন থেকেই ঘড়ির যাত্রা শুরু হলেও আজ তা ফ্যাশনের স্বতন্ত্র অনুষঙ্গ। কখনো ব্রেসলেট, কখনো আংটি, আবার কখনো স্মার্ট প্রযুক্তির রূপে ঘড়ি বদলে নিচ্ছে নিজের পরিচয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পাশাপাশি নিজের রুচি প্রকাশের এই অনুষঙ্গ তাই ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে দিন দিন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি