মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজন পুষ্টি

চিকিৎসাপত্র ডেস্ক

ফিচার

আমরা প্রতিদিন কী খাচ্ছি, কখন খাচ্ছি এবং খাবারে কী ধরনের পুষ্টি থাকছে, তার প্রভাব পড়ে শরীর ও মস্তিষ্ক দুটির ওপরই।

2026-10-26T13:15:15+00:00
2026-10-26T13:43:35+00:00
 
  সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ফিচার
মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজন পুষ্টি
চিকিৎসাপত্র ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ পিএম  আপডেট: ২৬.১০.২০২৬ ১:৪৩ পিএম
মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজন পুষ্টি। ছবি : সংগৃহীত
আমরা প্রতিদিন কী খাচ্ছি, কখন খাচ্ছি এবং খাবারে কী ধরনের পুষ্টি থাকছে, তার প্রভাব পড়ে শরীর ও মস্তিষ্ক দুটির ওপরই। কোনো কাজ করতে গিয়ে বারবার মনোযোগ হারানো, পরিচিত নাম মনে করতে না পারা কিংবা পড়া বিষয় দ্রুত ভুলে যাওয়ার পেছনে থাকে বিভিন্ন ধরনের কারণ। এর মধ্যে ঘুমের ঘাটতি, মানসিক চাপ, শারীরিক অসুস্থতা ও পুষ্টির অভাব উল্লেখযোগ্য। সুষম খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

মস্তিষ্ক শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এর স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য নিয়মিত শক্তি ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। গ্লুকোজ মস্তিষ্কের প্রধান শক্তির উৎস হলেও শুধু শর্করাজাতীয় খাবার খেলেই মস্তিষ্ক সুস্থ থাকে না। প্রয়োজন হয় প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন, খনিজ ও পর্যাপ্ত পানিরও।

ডা. জিন্না তারা রুমি বলেন, খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের সম্পর্ক রয়েছে। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পেলে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন বি১২, আয়রনসহ কিছু পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। আবার দীর্ঘদিন অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অপর্যাপ্ত ঘুম ও অতিরিক্ত মানসিক চাপও মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে হঠাৎ স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া কিংবা দীর্ঘদিন মনোযোগের সমস্যা থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


মাছ, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম, শাকসবজি ও ফলমূল থেকে শরীর প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টি পায়। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ ও কিছু দেশি মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কোষের গঠন ও কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। ডিম, মাছ, মাংস, দুধ ও ডালে থাকা প্রোটিন শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজন হয়।

এ ছাড়া ভিটামিন বি১২, ফোলেট ও আয়রন স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে ক্লান্তি, দুর্বলতা কিংবা মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার সব কারণই যে পুষ্টির অভাব, তা নয়।

কোন খাবার কীভাবে সাহায্য করে

শাকসবজি ও ফলমূল : শাকসবজি ও ফলমূলে থাকা ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। নিয়মিত বিভিন্ন রঙের শাকসবজি, পেয়ারা, কমলা, পেঁপে ও অন্যান্য মৌসুমি ফল খাওয়ার অভ্যাস সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

বাদাম ও বীজ : চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, আখরোট, তিল ও কুমড়ার বীজে থাকে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও বিভিন্ন খনিজ। পরিমিত পরিমাণে এসব খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

মাছ ও ডিম : মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ডিমের কোলিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে কোনো একটি খাবার খেলেই স্মৃতিশক্তি বেড়ে যাবে, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যতালিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


পর্যাপ্ত পানি : শরীরে পানির ঘাটতি হলে ক্লান্তি, মাথা ব্যথা ও মনোযোগের সমস্যা হতে পারে। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। গরম আবহাওয়া ও শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা অনুযায়ী পানির চাহিদা বাড়তে পারে।
যেসব খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা প্রয়োজন

অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টিজাতীয় পানীয়, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। এসব খাবারের পরিবর্তে ঘরে তৈরি সুষম খাবার, শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, মাছ ও পরিমিত পরিমাণে বাদাম বেছে নেওয়া ভালো।

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা কিংবা অনিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়ার কারণে কারও কারও দুর্বলতা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে সকালে নাশতা না করে দীর্ঘ সময় কাজ করলে ক্ষুধা ও ক্লান্তি দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে নাশতা বাদ দেওয়ার প্রভাব একই রকম নয়। নিজের শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান এড়িয়ে চলাও মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয়।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকুক ভারসাম্য

স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ ভালো রাখতে দামি খাবার বা বিশেষ কোনো সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, ডিম, ডাল, দুধ বা বিকল্প পুষ্টিকর খাবার রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

তবে স্মৃতিশক্তি হঠাৎ কমে গেলে, দৈনন্দিন কাজ মনে রাখতে অসুবিধা হলে কিংবা মনোযোগের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক পুষ্টির ঘাটতি, ঘুমের সমস্যা, থাইরয়েডের অসুস্থতা বা অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ পরীক্ষা করতে পারেন।

সুষম খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের সুস্থতার অন্যতম ভিত্তি। তাই সুস্থ স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্য, পুষ্টির ভারসাম্য এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/মহু

  বিষয়:   মস্তিষ্ক  পুষ্টি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: