সুস্থ থাকতে হাঁটার বিকল্প নেই। ছবি : সংগৃহীত সুস্থ থাকতে হাঁটার বিকল্প নেই। নিয়মিত হাঁটা শরীর ভালো রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তবে সাধারণ হাঁটার পাশাপাশি সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে ‘লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং’। শরীরের লিম্ফ্যাটিক বা লসিকাতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে সহায়তা করার ধারণা থেকে এই ধরনের হাঁটার কথা বলা হয়। ধীরগতিতে, ছন্দ বজায় রেখে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিয়ে হাঁটাই এর মূল বৈশিষ্ট্য।
লসিকাতন্ত্রের কাজ
আমাদের শরীরে রক্তসঞ্চালন ব্যবস্থার পাশাপাশি রয়েছে লসিকাতন্ত্র। এই ব্যবস্থার অংশ হলো লসিকানালি, লসিকাগ্রন্থি এবং লসিকাতরল। শরীরের বিভিন্ন টিস্যু থেকে অতিরিক্ত তরল সংগ্রহ করে রক্তপ্রবাহে ফিরিয়ে দেওয়া, রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করা এবং কিছু বর্জ্য পদার্থ পরিবহনে ভূমিকা রাখে এই তন্ত্র। রক্তের মতো লসিকাতরল সঞ্চালনের জন্য লসিকাতন্ত্রের নিজস্ব কোনো কেন্দ্রীয় পাম্প নেই। শরীরের পেশির সংকোচন, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং লসিকানালির স্বাভাবিক সংকোচনের মাধ্যমে এই তরল চলাচল করে। তাই নিয়মিত শারীরিক নড়াচড়া লসিকাতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে।
কীভাবে করবেন লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং?
লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং করতে জটিল কোনো সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। ঘরের ভেতরে কিংবা বাইরে সুবিধাজনক জায়গায় এটি করা যায়।
ধীরে শুরু করুন : প্রথমে পাঁচ থেকে দশ মিনিট স্বাভাবিক গতিতে হাঁটুন। শরীরের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ধীরে ধীরে সময় বাড়ান।
শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোযোগ দিন : নাক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন এবং আরাম করে শ্বাস ছাড়ুন। শ্বাস আটকে রাখবেন না।
হাত-পা সচল রাখুন : হাঁটার সময় হাত স্বাভাবিকভাবে দোলান। পায়ের পাতা মাটিতে রেখে স্বচ্ছন্দভাবে সামনে এগিয়ে যান।
মাঝেমধ্যে বিরতি নিন : দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকলে মাঝেমধ্যে উঠে কয়েক মিনিট হাঁটুন। এতে পেশির সক্রিয়তা বজায় থাকে।
নিয়মিত অভ্যাস গড়ুন : শুরুতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটতে পারেন। শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী সময় বাড়িয়ে নিন। হাঁটার সময় গতি এমন রাখুন, যাতে স্বচ্ছন্দে কথা বলা যায়।
যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং শরীরের চর্বি গলিয়ে দেয়, দ্রুত ওজন কমায় কিংবা শরীর থেকে সব বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়, এসব বিষয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে নিয়মিত হাঁটা স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। যাদের পা বা শরীরের কোনো অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে, তাদের ক্ষেত্রে শুধু হাঁটার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। লসিকাতন্ত্রের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম, কমপ্রেশন থেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
হঠাৎ এক পা ফুলে গেলে, ব্যথা বা লালচে ভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিংকে আলাদা কোনো ব্যায়াম না ভেবে নিয়মিত শরীরকে সক্রিয়তার একটি পদ্ধতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। সুস্থ থাকতে প্রতিদিন হাঁটা, পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস কমানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/মহু