ফিট শরীর পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। কুড়ির কোঠায় না থাকলেও শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখা সম্ভব। এর জন্য প্রতিদিন কঠিন ব্যায়াম কিংবা কঠোর ডায়েট অনুসরণ করাও জরুরি নয়। ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনের কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই শরীরের গঠন ও স্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
নিয়মিত হাঁটা
শরীরচর্চা শুরু করার জন্য হাঁটার চেয়ে সহজ উপায় কমই আছে। নিয়মিত হাঁটা হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য উন্নত করে, অস্থিসন্ধির সচলতা বাড়ায়, মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরকে সক্রিয় রাখতেও হাঁটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে, প্রথম দিন থেকেই নির্দিষ্ট সংখ্যক পদক্ষেপ পূরণ করার চাপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের বর্তমান সক্ষমতা অনুযায়ী শুরু করে ধীরে ধীরে হাঁটার পরিমাণ বাড়ানোই ভালো।
ওয়েট ট্রেনিং
শরীরকে দীর্ঘদিন শক্তিশালী রাখতে স্ট্রেংথ বা ওয়েট ট্রেনিংও গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশির ভর এবং হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এই পরিবর্তনগুলো মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে। সপ্তাহে অন্তত দুবার স্ট্রেংথ ট্রেনিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের ব্যায়াম পেশির ভর ও হাড়ের শক্তি বজায় রাখতে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিপাকক্রিয়া সচল রাখা, শরীরের ভারসাম্য উন্নত করা এবং বয়সের সঙ্গে আঘাতের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে। রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড কিংবা ডাম্বেলের মাধ্যমে এ ধরনের ব্যায়াম করা সম্ভব।
খাদ্যতালিকায় প্রোটিন
শরীরচর্চার পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দিনে অন্তত দুটি উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার রাখলে পেশি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করতে পারে। পর্যাপ্ত প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে, অপ্রয়োজনীয় নাশতা বা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। পাশাপাশি এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ঘরে তৈরি খাবারকে গুরুত্ব দেওয়া
সুস্থ থাকার আরেকটি কার্যকর অভ্যাস হলো ঘরে তৈরি খাবারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। বাড়িতে রান্না করলে খাবারের উপকরণ, পরিমাণ এবং রান্নার পদ্ধতি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাইরে বা প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্যালোরি, লুকানো চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমাণ সম্পর্কে সবসময় নিশ্চিত হওয়া যায় না। ঘরে রান্না করা খাবারের মাধ্যমে নিজের স্বাস্থ্য লক্ষ্য অনুযায়ী খাবারের উপকরণ ও রেসিপিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সহজ হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতেও সহায়তা করতে পারে।
পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় অনেকেরই ঘুমের স্বাভাবিক রুটিন নষ্ট হয়ে যায়। অথচ শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে ঘুমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ৭ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর চেষ্টা করা এবং নিয়মিত সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস পেশির পুনর্গঠন, হরমোনের ভারসাম্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। ঘুমানোর আগে নির্দিষ্ট একটি রুটিন তৈরি করা এবং সময়মতো ঘুমের প্রস্তুতি নেওয়াও এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।
সময়ের আলো/মহু