সম্পর্ক মানেই যে দুজন মানুষের সব পছন্দ, অভ্যাস কিংবা জীবনযাপনের ধরন এক হবে, এমনটা নয়। একই ছাদের নিচে থেকেও দুজনের খাবারের রুচি থেকে শুরু করে খাওয়ার সময় পর্যন্ত অনেক কিছুতেই পার্থক্য থাকতে পারে। এসব ছোটখাটো পার্থক্য থেকেই অনেক সময় তৈরি হয় বিরক্তি বা মনোমালিন্য। সেই চাপ কমাতেই সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে ‘ফুড ডিভোর্স’ নামের একটি লাইফস্টাইল ট্রেন্ড।
‘ফুড ডিভোর্স’ শুনে প্রথমে মনে হতে পারে, খাবার নিয়ে দম্পতির বিচ্ছেদ! বিষয়টি একেবারেই তা নয়। এর অর্থ হলো, সম্পর্কে থেকেও দুজন নিজেদের খাবারের পছন্দ, খাদ্যাভ্যাস এবং খাওয়ার সময় অনুযায়ী স্বাধীনভাবে খাবার বেছে নেওয়া।
ধরা যাক, একজন রাতে হালকা খাবার খেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, অন্যজন আবার ভারী খাবার পছন্দ করেন। কিংবা একজন নির্দিষ্ট ডায়েট অনুসরণ করছেন, কিন্তু অন্যজনের সেই ডায়েট মেনে চলার প্রয়োজন বা আগ্রহ নেই। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিদিন দুজনকে একই খাবার খাওয়ার জন্য চাপ না দিয়ে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাওয়ার সুযোগ দেওয়াই ‘ফুড ডিভোর্স’-এর মূল ধারণা।
দাম্পত্য জীবনে খাবার নিয়ে সবচেয়ে পরিচিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো, ‘আজ কী রান্না হবে?’ দুজনের পছন্দ যদি এক না হয়, তাহলে প্রতিদিনের এই সিদ্ধান্তই কখনো কখনো বিরক্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। একজন ঝাল খাবার ভালোবাসেন, অথচ অন্যজন ঝাল একেবারেই পছন্দ করেন না। কারও কাছে ভাত ছাড়া খাবার অসম্পূর্ণ, আবার সঙ্গী হয়ত রুটি, সালাদ বা অন্য ধরনের খাবারেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
প্রতিদিন দুজনের পছন্দ এক করার চেষ্টা করতে গিয়ে যেমন রান্নাঘরে বাড়তি চাপ তৈরি হয়, তেমনি সম্পর্কেও অযথা বিরক্তি জমতে পারে। ‘ফুড ডিভোর্স’ এক্ষেত্রে দুজনকে কিছুটা স্বাধীনতা দেওয়ার কথা বলে। অর্থা,ৎ একজনের পছন্দের খাবার অন্যজনেরও পছন্দ করতেই হবে- এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
শুধু খাবারের ধরন নয়, খাওয়ার সময় নিয়েও দুজনের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। কেউ সন্ধ্যা ৭টা বা ৮টার মধ্যেই রাতের খাবার খেয়ে নিতে চান, আবার কাজের ব্যস্ততার কারণে অন্যজন হয়ত রাত ১০টা বা ১১টার আগে খাওয়ার সুযোগ পান না। প্রতিদিন একসঙ্গে খেতেই হবে- এমন নিয়মের কারণে চাপ তৈরি করার বদলে দুজন নিজেদের সুবিধামতো সময়ে খেতে পারেন। এতে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত রুটিনও বজায় থাকে।
তবে, ‘ফুড ডিভোর্স’ মানেই একসঙ্গে খাওয়া বা সময় কাটানো পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া নয়। অনেক দম্পতি প্রতিদিনের খাবারের ক্ষেত্রে নিজেদের পছন্দকে স্বাধীন রাখলেও বিশেষ সময়গুলো একসঙ্গে উপভোগ করেন। ছুটির দিন, বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান কিংবা সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি দিনে দুজন একসঙ্গে বসে পছন্দের খাবার খেতে পারেন। কেউ কেউ দিনে অন্তত একবার একসঙ্গে খাওয়ার চেষ্টা করেন। আবার প্রতিদিন তা সম্ভব না হলে সপ্তাহান্তে একসঙ্গে রান্না কিংবা খাওয়ার আয়োজনও করা যায়।
‘ফুড ডিভোর্স’-এর মূল উদ্দেশ্য সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাওয়া নয়, বরং খাবারের মতো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় চাপ ও ঝগড়া কমানো। দুজনের আলাদা পছন্দকে সম্মান করার মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের অনেক টানাপোড়েন এড়ানো সম্ভব।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
সময়ের আলো/মহু