যেসব নিয়ম মেনে চললে কমবে সড়ক দুর্ঘটনা

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা রোজকার চেনা চিত্র। প্রতিদিন এতে বহু মানুষ আহত ও নিহত হন। এর ফলে অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনকে

2026-10-22T15:41:58+00:00
2026-10-22T15:44:56+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
৬ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
ফিচার
যেসব নিয়ম মেনে চললে কমবে সড়ক দুর্ঘটনা
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪১ পিএম  আপডেট: ২২.১০.২০২৬ ৩:৪৪ পিএম
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা রোজকার চেনা চিত্র। প্রতিদিন এতে বহু মানুষ আহত ও নিহত হন। এর ফলে অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারায় এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে, কিছু নিয়ম মেনে চললে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

ট্রাফিক আইন মেনে চলা

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। ট্রাফিক সিগন্যাল, রাস্তার চিহ্ন এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। লাল বাতি জ্বললে গাড়ি থামাতে হবে এবং সবুজ বাতি জ্বললে নিরাপদে চলতে হবে।

নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা

অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। তাই চালকদের রাস্তার ধরন, যানবাহনের অবস্থা ও আবহাওয়া অনুযায়ী নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালাতে হবে। স্কুল, হাসপাতাল ও জনবহুল এলাকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা

গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা, বার্তা লেখা বা অন্য কাজে মনোযোগ দেওয়া বিপদজনক। এতে চালকের মনোযোগ নষ্ট হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই গাড়ি চালানোর সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ রাস্তায় রাখতে হবে।

হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার করা

মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট পরতে হবে। গাড়িতে চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট ব্যবহার করতে হবে। এসব সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্ঘটনা ঘটলে গুরুতর আঘাত ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।


নিরাপদ স্থানে রাস্তা পারাপার হওয়া

পথচারীদের রাস্তা পারাপারের সময় জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভার ব্রিজ বা নির্ধারিত পারাপারের স্থান ব্যবহার করতে হবে। রাস্তা পার হওয়ার আগে দুই দিকের যানবাহন দেখে নিতে হবে। চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে হঠাৎ রাস্তা পার হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

দক্ষ ও বৈধ লাইসেন্সধারী চালক নিয়োগ করা

গাড়ি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা জরুরি। চালকদের ট্রাফিক আইন, সড়ক নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান থাকতে হবে। অদক্ষ চালকদের হাতে যানবাহন তুলে দেওয়া উচিত নয়।

গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষা করা

গাড়ি চালানোর আগে ব্রেক, টায়ার, হেডলাইট, ইন্ডিকেটর, স্টিয়ারিং ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করতে হবে। নিয়মিত যানবাহন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা

চলন্ত যানবাহনের মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব রাখতে হবে, যাতে সামনের গাড়ি হঠাৎ থেমে গেলে নিরাপদে ব্রেক করা যায়। বৃষ্টির সময়, কুয়াশায় কিংবা পিচ্ছিল রাস্তায় আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

মাদক গ্রহণ করে গাড়ি না চালানো

মাদক গ্রহণের পর গাড়ি চালালে চালকের বিচারবুদ্ধি, মনোযোগ ও প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই সম্পূর্ণ সুস্থ ও সচেতন অবস্থায় গাড়ি চালাতে হবে। অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব থাকলেও গাড়ি চালানো উচিত নয়।

অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন না করা

যানবাহনে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী বা মালামাল বহন করা বিপদজনক। এতে গাড়ির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা বাড়ে। তাই যানবাহনের নির্ধারিত ধারণক্ষমতা মেনে চলতে হবে।


পথচারী ও দুর্বল সড়ক ব্যবহারকারীদের প্রতি সতর্ক থাকা

চালকদের শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সাইকেল আরোহীদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বাসস্ট্যান্ড, স্কুল ও বাজারের আশপাশে ধীরে গাড়ি চালাতে হবে। পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে।

সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন, রাস্তা পারাপারের নিয়ম এবং সড়কে নিরাপদ চলাচল সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে।

সড়ক ও অবকাঠামোর উন্নয়ন করা

দুর্ঘটনা কমাতে রাস্তাঘাট মেরামত, পর্যাপ্ত সড়কবাতি স্থাপন, স্পষ্ট ট্রাফিক চিহ্ন ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় স্থানে ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় যথাযথ সতর্কতামূলক চিহ্ন স্থাপন করা প্রয়োজন।

ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া

সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নিয়মিত তদারকি করতে হবে। বেপরোয়া গাড়ি চালানো, ভুল পথে গাড়ি চালানো, অবৈধভাবে ওভারটেক করা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

সঠিকভাবে ও নিরাপদে ওভারটেক করা

সামনে থাকা যানবাহনকে অপ্রয়োজনে বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করা যাবে না। পর্যাপ্ত জায়গা ও দৃশ্যমানতা নিশ্চিত না করে ওভারটেক করা বিপজ্জনক। বাঁক, সেতু, মোড় ও সংকীর্ণ রাস্তায় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে এবং যেখানে ওভারটেক নিষিদ্ধ, সেখানে তা করা যাবে না।

সড়ক দুর্ঘটনা কমানো শুধু সরকার বা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব নয়; এটি চালক, যাত্রী, পথচারী এবং সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব। সবাই যদি ট্রাফিক আইন মেনে চলে, সচেতন থাকে এবং পরস্পরের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করে, তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। আমাদের মনে রাখতে হবে, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। তাই নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং সড়ক নিরাপত্তার নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   সড়ক দুর্ঘটনা  নিয়ম  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: