ছবি : সংগৃহীত কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা যুক্ত না করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আদালত। এ ঘটনায় জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রেকর্ড করার গুরুতর অবহেলার অভিযোগে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদারকে তলব করেছেন আদালত।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উখিয়ার আমলি আদালতের বিচারক ও কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ এ আদেশ দেন। ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রেকর্ড করার বিষয়টি নিয়ে আদালতপাড়ায় আলোচনা চলছে।
গত ১৭ অক্টোবর উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানীর পাটুয়ারটেকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় রিসোর্ট থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের ওই রাতেই উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস সূত্রধর বাদী হয়ে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করেন। এতে রিসোর্টের একজন মালিক ও তিন ব্যবস্থাপকসহ চারজনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়। পাশাপাশি রিসোর্টের ১৯ কর্মচারীকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
মামলার চার নম্বর আসামি রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন সুমনকে (২৯) গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কক্সবাজার কারাগারে রয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তার রিমান্ড আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার এফআইআর, এজাহার ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে বলা হয়েছে, টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ফায়ার লাইসেন্স ছিল না। সেখানে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ও জরুরি নির্গমন পথও (ফায়ার এক্সিট) ছিল না। ফলে আগুন লাগার পর পর্যটকেরা বের হতে না পেরে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০৪-ক, ৩৩৮ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এসব ধারায় সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। তবে ঘটনার গুরুত্ব ও প্রাণহানির সংখ্যা বিবেচনায় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা যুক্ত না করার বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়ে।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী সাইফুদ্দিন খালেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ১০ জন মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় এজাহার এভাবে রেকর্ড করাকে তিনি গুরুতর অপরাধজনক কাজ বলে মনে করেন। এমন ঘটনায় শাস্তি মাত্র পাঁচ বছরের কারাদণ্ড কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর দণ্ডবিধির ৩০৪-ক, ৩৩৮ ও ৩৪ ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়। ১৯ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা সংযোজনের আবেদন করেন। কিন্তু মামলা রেকর্ড করার সময় ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার ওই ধারা অন্তর্ভুক্ত করেননি। দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অপরাধের ধরন অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সোমবার রাতে উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) কামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, এ ধরনের ঘটনা সচরাচর ঘটে না। তাই ভুলক্রমে মামলায় ৩০৪ ধারা উল্লেখ করা হয়নি। পরে ভুল বুঝতে পেরে অজামিনযোগ্য এ ধারা সংযোজনের আবেদন করা হয়। আদালত সেই আবেদনের শুনানি করতে গিয়ে ওসিকে তলবের আদেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) রোমন ঘোষ বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/জেডি