ময়মনসিংহে ১৫ বছরে সড়ক না বাড়লেও বেড়েছে যানবাহন, যানজট

জাহাঙ্গীর কবির জুয়েল, ময়মনসিংহ

সারাদেশ

ময়মনসিংহ শহরে গত দেড় দশকে জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ। জেলা শহর থেকে বিভাগীয় শহর এবং পরে সিটি

2026-10-28T13:43:03+00:00
2026-10-28T13:43:03+00:00
 
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
ময়মনসিংহে ১৫ বছরে সড়ক না বাড়লেও বেড়েছে যানবাহন, যানজট
জাহাঙ্গীর কবির জুয়েল, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৩ পিএম 
ময়মনসিংহ শহরে তীব্র যানজটে ভোগান্তি। ছবি : সময়ের আলো
ময়মনসিংহ শহরে গত দেড় দশকে জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ। জেলা শহর থেকে বিভাগীয় শহর এবং পরে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ায় নগরীর পরিধি ও জনবসতি বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাড়েনি সড়ক। ফলে প্রতিদিন তীব্র যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই কখনো কখনো এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে।

২০১১ সালে ময়মনসিংহ শহরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় আড়াই লাখ। ওই সময় শহরে রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ হাজার। ২০২৬ সালে নগরীর জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ লাখে। একই সময়ে রিকশা, ইজিবাইক ও অটোরিকশার সংখ্যাও বেড়ে ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর সঙ্গে বেড়েছে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও সরকারি যানবাহন। তবে গত ১৫ বছরে নগরীতে নতুন সড়ক নির্মাণ কিংবা বিদ্যমান সড়কের দৈর্ঘ্য বাড়েনি বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।


জনসংখ্যা ও যানবাহনের এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে না পারায় যানজট এখন নগরবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি আব্দুল কাদের চৌধুরী বলেন, মহানগরীর এমন কোনো মোড় নেই, যেখানে যানজট নেই। প্রায় প্রতিটি সড়কেই ধীরগতিতে কিংবা থেমে থেমে চলতে হয়। শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের দূরত্ব আট থেকে ১০ কিলোমিটার হলেও অটোরিকশায় এই পথ পাড়ি দিতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে।

যানজট নিরসনে বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোর বেশির ভাগই দীর্ঘস্থায়ী সুফল বয়ে আনতে পারেনি। ১৯৯৭ সালে শহরের সাতটি মোড়ে স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়। প্রথম কয়েক বছর সেগুলো চালু থাকলেও পরে বিভিন্ন কারণে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরপর সিগন্যালগুলো আর সচল করা হয়নি।

গণপরিবহণব্যবস্থা কার্যকর করে যানজট কমানোর লক্ষ্যে ২০০৯ সালে চালু করা হয়েছিল টাউন সার্ভিস বাস। তবে এক বছর পর রাজনৈতিক কারণে সেই সেবাও বন্ধ হয়ে যায়।


এরপর বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালানো হলেও পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন হয়নি। ২০১৫ সালে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধনের মাধ্যমে চলাচলের নিয়ম করা হয়। তাতেও আশানুরূপ ফল মেলেনি। ২০১৭ সালে নিবন্ধিত যানবাহনগুলোকে জোড় ও বিজোড় সংখ্যার ভিত্তিতে ভাগ করে সপ্তাহে তিন দিন করে লাল ও সবুজ রঙে পৃথকভাবে চলাচলের নিয়ম চালু করা হয়। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই চালক ও মালিকেরা সেই নিয়ম মানা বন্ধ করে দেন।

বর্তমানে নগরীর গাঙ্গিনারপাড়, চরপাড়া, ব্রিজ, নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড়, বাতিরকল, বদরের মোড়, বলাশপুর ও জুবলী ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত যানজট দেখা যায়। সম্প্রতি সড়কের বিভাজকের কয়েকটি ইউটার্ন বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এতে কিছু জায়গায় যান চলাচল সহজ হলেও বেশির ভাগ স্থানে যানবাহনকে উল্টো পথে চলতে দেখা যাচ্ছে। ফলে যানজট নিরসনে নেওয়া উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে যানজট নিরসনে নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। এসব আলোচনায় বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি।

মহানগরীর ২৪টি পয়েন্টে দুই শিফটে ১২১ জন ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন। বিপুলসংখ্যক যানবাহনের চাপ সামাল দিতে এই জনবল যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


ট্রাফিক ইন্সপেক্টর গোলাম মাওলা বলেন, গত কয়েক দশকে মহানগরীর কোনো সড়ক প্রশস্ত করা হয়নি, নতুন সড়কও নির্মিত হয়নি। অথচ প্রতিবছরই বাড়ছে জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ। বহুতল ভবনে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থার অভাব, শহরের ভেতরে বাসস্ট্যান্ড স্থাপন এবং সড়ক বেদখল হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, নগরীতে অটোরিকশা ও মিশুক মিলিয়ে লাইসেন্সধারী যানবাহনের সংখ্যা ১৬ হাজারেরও কম। এর বাইরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার অটোরিকশা নগরীতে প্রবেশ করে। সব মিলিয়ে বৈধ ও অবৈধ প্রায় ৩৭ থেকে ৪০ হাজার অটোরিকশা ও মিশুক প্রতিদিন নগরীতে চলাচল করে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ক্রমবর্ধমান ব্যক্তিগত গাড়ি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ময়মনসিংহ নগরীর অনেক সড়ক তুলনামূলক সংকীর্ণ। এর ফলে যানবাহনের চাপ বাড়ছে এবং তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছে।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ ও নগরীর যানজট নিরসনে সিটি করপোরেশন সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। এ বিষয়ে মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে। অনিবন্ধিত যানবাহনের চলাচল বন্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   ময়মনসিংহ  সড়ক  বেড়েছে যানবাহন  যানজট  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: