মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সংগৃহীত ছবিআসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ফলাফল নিজের পক্ষে না এলে তা মেনে না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ বক্তব্যকে নিছক রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ কম। রিপাবলিকান নেতা হিসেবে নিজের পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনের আগে আবারও সেই পরিচিত কৌশল প্রয়োগ করছেন তিনি। নির্বাচনের কয়েক মাস আগেই ভোটব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগও আনছেন। ভোট শুরুর আগেই এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত করছেন তিনি।
সম্প্রতি টেক্সাসে একটি নির্বাচনী সমাবেশ শেষে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, তিনি তা মেনে নেবেন কি না। আধুনিক রাষ্ট্রের একজন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর প্রত্যাশিত হলেও ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল শর্তসাপেক্ষ। তিনি বলেন, নির্বাচন সৎ ও স্বচ্ছ হলে তিনি ফল মেনে নেবেন। তবে এ বক্তব্যের মধ্যেই উদ্বেগের বিষয় রয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রাম্প কার্যত নির্বাচনের সততা নির্ধারণের দায়িত্ব নিজের হাতে রাখছেন।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পরও তিনি নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার নিজ দলের একাধিক কর্মকর্তা, দেশের আদালত ও বিচার বিভাগও অভিযোগগুলো খারিজ করে দিয়েছিল।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের অনুকূলে পরিস্থিতি তৈরিতে প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আলাস্কায় রিপাবলিকান প্রার্থী ড্যান সুলিভান হেরে গেলে ওই নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত করা বা সার্টিফাই করার প্রক্রিয়া আটকে দিতে বিচার বিভাগকে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ায় অনাগরিক ভোটার শনাক্ত করার যুক্তিতে বিচার বিভাগ নির্দেশ জারি করলেও আদালত তা আটকে দেয়।
২০২০ সালের নির্বাচনের সময় তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বার ট্রাম্পের ভিত্তিহীন জালিয়াতির অভিযোগের বিরোধিতা করেছিলেন। তবে বর্তমান বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। তাদের কেউ ট্রাম্পের রাজনৈতিক পদক্ষেপ ও বক্তব্যের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছেন, আবার কেউ নীরব থাকছেন।
আমেরিকার আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটাল হিলে ট্রাম্পের সমর্থকদের রক্তক্ষয়ী হামলা একটি অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। ওই ঘটনার আগেও নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন ট্রাম্প। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক মাস আগে থেকেই তিনি সমর্থকদের মধ্যে এ বিষয়ে সন্দেহ তৈরি করেছিলেন। বারবার বলেছিলেন, নির্বাচন ‘সুষ্ঠু’ হলেই কেবল তিনি ফল মেনে নেবেন।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় ট্রাম্প ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেননি। কিন্তু এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প নিজেকে সব সময় একজন ‘বিজয়ী’ হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করেন। নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করা তার তৈরি করা এই ভাবমূর্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে নির্বাচনে বিপর্যয় ঘটলে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ফল স্থগিত রাখা বা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা করতে পারেন তিনি।
তবে অনেক ডেমোক্র্যাট নেতা ও রাজ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা সম্ভাব্য এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ট্রাম্প এবারও নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যানের চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা নতুন করে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ