খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কিত গ্রামবাসী

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সারাদেশ

সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যতলা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে ভাঙনকবলিত এলাকায় বসবাসকারী

2026-10-28T22:08:52+00:00
2026-10-28T22:08:52+00:00
 
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কিত গ্রামবাসী
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম 
ভাঙনকবলিত এলাকায় বসবাসকারী গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি : সময়ের আলো
সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যতলা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে ভাঙনকবলিত এলাকায় বসবাসকারী গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও নদীতে উত্তাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এতে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট অংশে ফাটল ধরে। পরে তা ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। 

এদিকে বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেওয়ার সাথে সাথে গ্রামের মসজিদের মাইক থেকে প্রচার করে বাঁধ মেরামতে অংশ নেওয়ার জন্য গ্রামবাসীদেরকে ভাঙন পয়েন্টে ডাকা হয়। খবর পেয়ে রাতেই গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ সংষ্কারের কাজে লেগে পড়েন। তারা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় ভাঙনপয়েন্টে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করে।

পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও খোলপেটুয়া নদীর প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে বন্যতলা এলাকায় বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ভাঙন ধরে। এসময় বাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। ভাঙন কবলিত এলাকায় নদীর বাঁধের প্রস্থ কোথাও কোথাও এক থেকে দেড় ফুট করে অবশিষ্ট আছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় স্থানীয়রা গ্রামের মসজিদের মাইক থেকে এলাকাবাসীকে সতর্ক করেন। 

খবর ছড়িয়ে পড়তেই বন্যতলা গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী প্রতাপনগর ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষ বাঁধের কাছে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। নিজেদের বসতভিটা ও জনপদ রক্ষায় তারা সেখানে আগে থেকে রেডি করা বালু ভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেন। রাতেও চলে বাঁধ রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা। ভাঙন পয়েন্টের কিছুটা অংশে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। 

প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালি জানান, ভাঙন পয়েন্ট বন্যতলা গ্রাম শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নের মধ্যে হলেও আমার ইউনিয়নের লাগোয়া। ভাঙন পয়েন্ট দিয়ে পানি ঢুকলে প্রতাপনগর ইউনিয়ন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বেড়িবাঁধ ভাঙনের খবর পাওয়ার সাথে আমরা লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। রাতেই সেখানে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়। আজও সেখানে লোকজন পাউবো কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ অব্যাহত রেখেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/১ পোল্ডারের বন্যতলা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন দীর্ঘদিনের। এখানে বাঁধ সংষ্কারের জন্য একজন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বেশ আগে। খুলনার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাবুল এন্টারপ্রাইজ এই কাজ পেয়েছেন। কিন্তু ভাঙন পয়েন্টে ডাম্পিং করার জন্য ঠিকাদারের লোকজন জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে রেখে গেছে অনেকদিন আগে। সময়মতো বালু ভর্তি জিওব্যাগ ভাঙন পয়েন্টে ডাম্পিং করা হলে আজকের এই অবস্থা হতো না।

স্থানীয় ঘের মালিক রবিউল ইসলাম জানান, বন্যতলা এলাকায় বেড়িবাঁধ সংষ্কার কাজে ব্যবহারের জন্য হাজার হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুুত রাখা হলেও সেগুলো সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ব্যবহার করা হয়নি। যে কারণে খোলপেটুয়া নদীর স্রোতের টানে হঠাৎ করে বেড়িবাঁধ ধসে পড়েছে। দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে বাঁধ ভেঙে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যতলা গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীর পানিতে প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই বেড়িবাঁধ সংস্কারে আগেভাগে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি এতটা নাজুক হতো না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বন্যতলার ভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার সাথে সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া জেলা জেলা প্রশাসক মহোদয় ও শ্যামনগরের ইউএনওকেও জানিয়েছি। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ভাঙন পয়েন্টে জিও ব্যাগ দিয়ে ডাম্পিংয়ের কাজ করছে।

সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, ভাঙনের খবর পেয়ে রাতেই সেখানে লোক পাঠানো হয়। বন্যতলা এলাকায় আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা বালু ভর্তি জিওব্যাগ গ্রামবাসীর সহায়তায় ভাঙন পয়েন্টে ডাম্পিং করা হচ্ছে। বুধবার বিকাল নাগাদ ভাঙন পয়েন্টে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হলে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বন্যতলা এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামতে আগে থেকেই সেখানে একজন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। ঠিকারদার ভাঙন পয়েন্টে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের জন্য জিও ব্যাগে বালু ভরে প্রস্তুত করে রেখেছিল। টাস্কফোর্স কর্তৃক ব্যাগ গণনা ও মার্কিং করার পরে তা ভাঙন পয়েন্টে ফেলার কথা। যাবতীয় প্রসিডিওর মেইন্টেইন করতে গিয়ে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ে একটু দেরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

সময়ের আলো/এনএন
  বিষয়:   খোলপেটুয়া নদী  বেড়িবাঁধে ভাঙন  আতঙ্কিত গ্রামবাসী  সাতক্ষীরা  শ্যামনগর  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: