বাম থেকে মনপুরা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ও মৎস্য ব্যবসায়ী হাফেজ আবদুর রহিম এবং উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা। ছবি : সংগৃহীতভোলার মনপুরা উপজেলায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান চলাকালে আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে নদীতে মাছ শিকারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া অডিওটিতে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা এবং মনপুরা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ও মৎস্য ব্যবসায়ী হাফেজ আবদুর রহিমের মধ্যে কথোপকথন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কথোপকথনে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখাকে বলতে শোনা যায়, রহিম ভাই, শোনেন, একটা প্যাঁচ দিয়ে থুইয়া গেছেন। আমি না পারি অভিযান করতে। আমার ওপর থেকে চাপ আসতেছে। বাকি টাকা মাগরিবের আগে পাঠাই দিয়েন, না দিলে সব বোটে আগুন জ্বালাই দিমু।
এর জবাবে মৎস্য ব্যবসায়ী আবদুর রহিম বলেন, যা করেন করেন, ফরটি ফাইভ দিছি। এর মধ্যে যেভাবে হোক আপনি আমাকে সেভ কইরেন।
এছাড়া কাজল রেখাকে আরও বলতে শোনা যায়, আমারে তো চা খাওয়ার জন্যেও দেন নাই। চা খাওয়ার টাকা দিলেও তো খুশি হতাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত দুই শতাধিক ট্রলারের প্রত্যেকটির কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব টাকা লেনদেনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া হতো। পরে সংগৃহীত টাকা ভাগ করে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
উপজেলা বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছালাউদ্দিন প্রিন্স অডিও রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন, এই হলো গরিবের পেটে লাথি মারার অবরোধ, সবকিছু ভাগবাটোয়ারার খেলা।
সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা দাবি করেছেন, এটি একটি পুরোনো অডিও রেকর্ড এবং তিনি রাজনৈতিক দল ও অফিসের একটি অসাধু মহলের গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি একটি ফিশিং বোট আটকের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষ এই পুরোনো রেকর্ড কৃত্রিম উপায়ে ছড়িয়ে দিয়েছে বলে তার দাবি। পরে তিনি তার কার্যালয়ে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
অন্যদিকে, যুবদল নেতা আবদুর রহিম ফোনালাপের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, আধুনিক প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তার কণ্ঠ নকল বা এডিট করে এই ভুয়া অডিও তৈরি করা হয়েছে।
মনপুরা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে সত্যতা যাচাই করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবিব এবং ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/আতা