প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৪ এএম
নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন সব তথ্য উঠে এসেছে। ছবি : সংগৃহীতজলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বছরে প্রায় ২০.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের জিডিপির ৪.৬ শতাংশ। এর ৯৮ শতাংশই তাপজনিত। অথচ জলবায়ু-প্রাসঙ্গিক বাজেটে স্বাস্থ্য খাত পায় মাত্র ১.৫ থেকে ২.৪ শতাংশ। নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন সব তথ্য উঠে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠেয় নীতি-সংলাপে গবেষণাটি উপস্থাপন করবেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও অর্থনীতিবিদ ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন। মেলিওর ফাউন্ডেশন ও গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন্স কাউন্সিলের সহায়তায় গবেষণাটি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৪ সালে তাপের কারণে ২৯.২৫ বিলিয়ন সম্ভাব্য কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে, যা ১৯৯০ সালের ২.৪ গুণ। এর ৬৪ শতাংশ কৃষিতে। এই কর্মঘণ্টার মূল্য ১৫.৮ বিলিয়ন ডলার। ২০২৩ সালে তাপের কারণে প্রায় ১৬ হাজার মৃত্যু হয়েছে বলে মডেলভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, যার মূল্য ১.৪ থেকে ৭.৪ বিলিয়ন ডলার। অথচ তাপজনিত মৃত্যুর জাতীয় কোনো নিবন্ধন নেই, নেই জাতীয় হিট-হেলথ পরিকল্পনাও। ২০২৪ সালে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার দিন ছিল ২৮টি, যা ৪৬ বছরের সর্বোচ্চ। ১৯৮০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দশকে প্রায় ০.১৩ ডিগ্রি বেড়েছে।
৬৪ জেলার দৈনিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্য জেলার চেয়ে ১ ডিগ্রি বেশি উষ্ণ জেলায় ডেঙ্গুতে ভর্তি ১৮ থেকে ২৪ শতাংশ বেশি, যার সর্বোচ্চ প্রভাব পড়ে ১৪ থেকে ২১ দিন পর। অর্থাৎ আবহাওয়া রোগীকে দুই-তিন সপ্তাহ আগেই সংকেত দেয়, যা আগাম সতর্কতার সুযোগ। ২৮ থেকে ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। ২০২৩ সালে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ভর্তি ও ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। এখন ভর্তি রোগীর দুই-তৃতীয়াংশ ঢাকার বাইরে, কিন্তু মৃত্যুর ৫৭ থেকে ৬৪ শতাংশ ঢাকা সিটির হাসপাতালে। প্রতি হাজার ভর্তিতে মৃত্যু ঢাকায় ৮ থেকে ৯, অন্যত্র ২ থেকে ৪। ভর্তির পর নারীর মৃত্যুঝুঁকি পুরুষের ১.৮ গুণ এবং ৬১ বা তার বেশি বয়সিদের ঝুঁকি শিশুদের ৪.৫ গুণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার ১১৩টি হস্তক্ষেপের মাত্র ৩টি সরাসরি স্বাস্থ্যসংক্রান্ত। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের মাত্র ০.৫৮ শতাংশ গেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে। বরাদ্দের তুলনায় প্রকৃত ব্যয় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৮ শতাংশ, ২০২৩-২৪—এ ৬৫ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫-এ ২৪ শতাংশ। শেষোক্ত বছরে ৫৯২ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের মাত্র ৩৭ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে গৃহীত স্বাস্থ্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার (২০২৬-২০৩১) বাজেট এখনও প্রকাশিত হয়নি।
চলতি স্বাস্থ্যব্যয়ের ৭৯ শতাংশ বহন করে পরিবার, সরকারি স্বাস্থ্যব্যয় জিডিপির মাত্র ০.৩১ শতাংশ। ২০২৩ সালে কণাদূষণে প্রায় ২ লাখ ৬৩ হাজার মৃত্যু হয়েছে বলে মডেলভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে। ২০২৪ সালে গড় পিএম ২.৫ ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকার প্রায় ১৫ গুণ বলে গবেষণায় জানানো হয়। গবেষণায় ১২টি সুপারিশ রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মের আগে হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান, বর্ষার আগে ডেঙ্গুর আগাম সতর্কতা, জেলা হাসপাতালে গুরুতর ডেঙ্গুসেবা, প্রতি ত্রৈমাসিকে স্বাস্থ্যব্যয় প্রকাশ, ডিজিএইচএস ও আবহাওয়া অধিদফতরের যৌথ তথ্যভান্ডার উল্লেখযোগ্য। প্রথম ধাপে কক্সবাজার, বরিশাল ও ময়মনসিংহ এবং কুড়িগ্রামসহ ১৬টি অগ্রাধিকার জেলায় পাইলট চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে