প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৯ এএম আপডেট: ২৯.১০.২০২৬ ১০:২৭ এএম
আমান উল্লাহ সাগর। ছবি : সংগৃহীত নেত্রকোণার মদনে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী ১১ নভেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত।
নেত্রকোণা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুছ সালামের আদালতে চাঞ্চল্যকর এ মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক বুধবার অনুষ্ঠিত হয়। পরে এই আদেশ দেন বিচারক।
এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আনিসুর রহমান আপস-মীমাংসার প্রস্তাব তুলতে চাইলে আদালত তা কঠোরভাবে নাকচ করে দেন। বিচারক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এ ধরনের গুরুতর অপরাধে কোনো আপসের সুযোগ নেই। শুনানিকালে বিচারক অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মামলার খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করেন এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল কি না, তা জানতে চান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নূরুল কবীর রুবেল জানান, সিআইডির ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরের ডিএনএ ৯৯.৯৯ শতাংশ হুবহু মিলে গেছে। পুলিশ কর্তৃক দাখিল করা চূড়ান্ত চার্জশিট এবং সিআইডির বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
পিপি মো. নূরুল কবীর রুবেল বলেন, রায়ের পূর্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলো। আমরা রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে যাবতীয় যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেছি। আমরা মনে করি, আসামির বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।
মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বড়বাড়ি ভাগবৎপুর এলাকায় অবস্থিত ‘হযরত ফাতেমা তুযযাহরা (রাঃ) কওমি মহিলা মাদরাসায় ঘটনাটি ঘটে। মাদরাসাটির মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) আমান উল্লাহ সাগর দিনের পর দিন ১১ বছরের ওই শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে।
পরে শিশুটির মা গত ২৩ এপ্রিল মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ও তার ভাইকে আসামি করে মামলা করেন। এজাহারে অভিযোগ আনা হয়, সাগর শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে একটি সন্তানের জন্ম দেয়। গত ৫ মে রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব-১৪।
সময়ের আলো/জোই