অসুস্থ হলেও নামাজ ছাড়ার সুযোগ নেই, যেভাবে পড়বেন

ইসলামরে আলো ডেস্ক

ইসলাম

রোগব্যাধি মানুষের জীবনের স্বাভাবিক বাস্তবতা। অসুস্থ হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, স্বাভাবিক চলাফেরাও অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে

2026-10-29T18:55:35+00:00
2026-10-29T18:55:35+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ইসলাম
অসুস্থ হলেও নামাজ ছাড়ার সুযোগ নেই, যেভাবে পড়বেন
ইসলামরে আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৫ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
রোগব্যাধি মানুষের জীবনের স্বাভাবিক বাস্তবতা। অসুস্থ হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, স্বাভাবিক চলাফেরাও অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে কারও কারও মনে হতে পারে, সুস্থ হওয়ার পর একসঙ্গে কাজা নামাজগুলো আদায় করে নেবেন। কিন্তু ইসলামে অসুস্থতার কারণে নামাজ ছেড়ে দেওয়ার কি কোনো সুযোগ আছে?

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, জ্ঞান ও চেতনা থাকা অবস্থায় অসুস্থতার কারণে নামাজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায় না। তবে ইসলাম মানুষের সামর্থ্য ও শারীরিক অবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে নামাজ আদায়ের পদ্ধতি সহজ করে দিয়েছে। দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে না পারলে বসে, আর বসেও পড়তে না পারলে শুয়ে নামাজ আদায় করার বিধান রয়েছে।

বুখারির শরিফের ১১১৭ নম্বর হাদিসে হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন রা.-কে নবীজি সা. বলেন, ‘দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো। যদি না পারো, তবে বসে পড়ো। আর যদি তা-ও না পারো, তবে শুয়ে শুয়ে নামাজ আদায় করো।’

চেতনা থাকা পর্যন্ত নামাজ ফরজ

ঈমান আনার পর একজন মুসলিমের ওপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদতগুলোর একটি হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। সুস্থতা কিংবা অসুস্থতা—উভয় অবস্থাতেই সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায় করতে হয়। কারণ, ইসলাম কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেয় না, বরং সামর্থ্যের সীমার মধ্যেই ইবাদত পালনের সুযোগ করে দেয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ কারও ওপর তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার চাপিয়ে দেন না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৮৬)

এই আয়াতের শিক্ষা হলো, শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ আদায় করা সম্ভব না হলে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। তবে সামান্য জ্বর, মাথাব্যথা বা দুর্বলতার কারণে নামাজ ছেড়ে দেওয়া কিংবা সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় তা পিছিয়ে রাখা যথাযথ নয়।


শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী নামাজ আদায়

অসুস্থ ব্যক্তির জন্য নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে ইসলাম বিশেষ ছাড় দিয়েছে। কোনো ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে গেলে রোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে, সুস্থ হতে দেরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকলে কিংবা পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ভয় থাকলে তিনি বসে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

বসে নামাজ পড়ার সময় সামর্থ্য অনুযায়ী রুকু ও সেজদা করতে হবে। অর্থাৎ, অসুস্থতার কারণে দাঁড়ানোর সক্ষমতা হারালেও নামাজ আদায়ের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, বরং শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইবাদত চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বসতে না পারলে শুয়ে নামাজ

অসুস্থতার কারণে বসেও নামাজ পড়া সম্ভব না হলে শুয়ে নামাজ আদায় করা যাবে। এ ক্ষেত্রে রোগী নিজের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিত হয়ে বা কাত হয়ে শুতে পারেন। মাথা নেড়ে ইশারার মাধ্যমে রুকু ও সেজদা করবেন। সেজদার ইশারা রুকুর ইশারার তুলনায় বেশি নিচু হবে।

তবে কারও অসুস্থতা এতটাই গুরুতর হলে যে তিনি মাথা নেড়েও ইশারা করতে পারছেন না, সে ক্ষেত্রে বিধান নির্ভর করবে তার শারীরিক অবস্থা ও অক্ষমতার স্থায়িত্বের ওপর। একইভাবে, জ্ঞান বা চেতনা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেললে নামাজের বিধানও ভিন্ন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থার সঙ্গে প্রযোজ্য বিধান জানতে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পানি ব্যবহার করতে না পারলে তায়াম্মুম

অসুস্থতার কারণে পানি ব্যবহার করলে রোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে কিংবা পানি ব্যবহারে গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে পবিত্রতা অর্জনের বিকল্প হিসেবে তায়াম্মুম করার অনুমতি দিয়েছে ইসলাম। ফলে শুধু পানি ব্যবহার করতে না পারার কারণে নামাজ ছেড়ে দিতে হয় না।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যদি তোমরা অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাকো... এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো, তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করো।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৪৩)

অর্থাৎ, অসুস্থ ব্যক্তির জন্য পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রেও সহজ বিধান রয়েছে। তবে তায়াম্মুমের অনুমতি প্রযোজ্য হবে শরিয়তসম্মত কারণ ও শর্ত পূরণ হলে।


অসুস্থতা হতে পারে পাপ মোচনের মাধ্যম

ইসলামের দৃষ্টিতে রোগব্যাধি শুধু কষ্টের কারণ নয়, একজন মুমিনের জন্য তা পাপ মোচনের মাধ্যমও হতে পারে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যখন কোনো কষ্ট, রোগব্যাধি বা অন্য কোনো সমস্যায় ভোগে, তখন আল্লাহ এর মাধ্যমে তার পাপগুলো এমনভাবে ঝরিয়ে দেন, যেমন গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৬৪০)

এই হাদিস মুমিনকে অসুস্থতার সময় ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার শিক্ষা দেয়। অসুস্থ অবস্থায়ও সামর্থ্য অনুযায়ী ইবাদত চালিয়ে যাওয়া একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং, অসুস্থতা মানেই নামাজ ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং দাঁড়াতে না পারলে বসে, বসতে না পারলে শুয়ে এবং প্রয়োজন হলে ইশারার মাধ্যমে নামাজ আদায়ের সুযোগ রয়েছে। ইসলাম মানুষের সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনায় নিয়ে ইবাদতের পথ সহজ করেছে। তাই অসুস্থতার সময়ও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায় করা এবং প্রয়োজনে সঠিক বিধান জেনে নেওয়াই একজন মুসলিমের কর্তব্য।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   অসুস্থ  নামাজ  ইসলাম  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: