নিষেধাজ্ঞা শেষ, নদীতে নেমেছেন চরফ্যাশনের ৫০ হাজার জেলে

চরফ্যাশন (ভোলা) সংবাদদাতা

সারাদেশ

টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরতে নদীতে নেমেছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার জেলে। দীর্ঘ কর্মহীনতা, ধারদেনা আর

2026-10-30T10:46:22+00:00
2026-10-30T10:46:22+00:00
 
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
নিষেধাজ্ঞা শেষ, নদীতে নেমেছেন চরফ্যাশনের ৫০ হাজার জেলে
চরফ্যাশন (ভোলা) সংবাদদাতা
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম 
তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকারে ব্যস্ত জেলেরা। ছবি : সময়ের আলো
টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরতে নদীতে নেমেছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার জেলে। দীর্ঘ কর্মহীনতা, ধারদেনা আর আর্থিক সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। জেলেদের আশা, এবার নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়লে বিগত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে পরিবারের অভাব-অনটন কিছুটা হলেও দূর হবে।

নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মাছ ধরতে না পারায় অনেক জেলেকে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। আয় বন্ধ থাকলেও নৌকা, জাল ও পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হয়েছে তাদের। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাল-নৌকা প্রস্তুত করে নদীতে নেমেছেন জেলেরা। তাদের চোখেমুখে এখন নতুন আশার আলো।

চরফ্যাশনের নদী-তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ বিরতির পর মাছ ধরতে নামলেও তাদের মনে রয়েছে নানা শঙ্কা। নিষেধাজ্ঞার সময় কিছু অসাধু জেলে গোপনে ইলিশ শিকার করেছেন বলে অভিযোগ তাদের। এতে নদীতে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সুফল নিশ্চিত করতে অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

জেলে আবুল কাশেম বলেন, ২২ দিন মাছ ধরতে না পেরে খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। এখন নদীতে নেমেছি, আশা করছি ভালো মাছ পাব। ইলিশ বেশি ধরা পড়লে দেনা শোধ করে পরিবারের খরচ চালাতে পারব।


জেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের জীবিকা নদীর মাছের ওপর নির্ভরশীল। নিষেধাজ্ঞার সময় আয় বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছি। এখন নদীতে নেমেছি অনেক আশা নিয়ে। আমরা চাই, নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যাক এবং মাছের ন্যায্য দাম নিশ্চিত হোক।

জেলে নুরে আলম বলেন, আমরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছিলাম। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কিছু লোক মাছ ধরেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে আমরা যারা আইন মেনে চলেছি, তারা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হই। নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ থাকলে আমাদের কষ্ট কিছুটা কমবে।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করা ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর জেলেরা পুনরায় নদীতে মাছ ধরার সুযোগ পেয়েছেন।

চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ কাজ করেছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলেরা আবার মাছ ধরতে পারবেন। ইলিশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। এতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং জেলেরা দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবেন।

দীর্ঘ ২২ দিনের বিরতি শেষে নদীতে নেমে এখন ভাগ্য বদলের আশায় চরফ্যাশনের জেলেরা। তাদের প্রত্যাশা, নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়বে, মাছ বিক্রির আয় দিয়ে শোধ হবে ধারদেনা, ফিরবে সংসারে স্বস্তি। এখন তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের অপেক্ষা—নদীতে ইলিশের প্রাচুর্য আর ন্যায্য দামই পারে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   নিষেধাজ্ঞা শেষ  নদী  চরফ্যাশন  জেলে  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: