ছাত্রদল নেতা শাকিল আহমেদের কবর জিয়ারতে সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও অন্য নেতারা। ছবি : সময়ের আলো নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল আহমেদ হত্যা মামলায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাসেল হোসেন ও তার সহযোগীদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। রাসেলকে এ হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা দাবি করে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড়ে নিহত শাকিলের কবর জিয়ারত করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে তারা শাকিলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
এ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, শাকিল হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাসেল হোসেন পুরোপুরি জড়িত বলে তারা জানতে পেরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে রাসেল তার সহযোগীদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে তাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন রাকিব।
তিনি বলেন, রাসেল ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একটি পক্ষ সন্ত্রাসীদের রক্ষার চেষ্টা করছে এবং শাকিল হত্যার সুষ্ঠু বিচার চায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে এলাকায় আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা এবং এ ঘটনায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ছাত্রদল সভাপতি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে রাকিবুল ইসলাম বলেন, তাদের প্রতি আস্থা রেখেই ছাত্রদল বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও ইন্ধনদাতাদের গ্রেফতারের জন্য বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সময়ও দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পরে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিহত শাকিলের বাবা রবিউল করিম বলেন, মৃত্যুর আগে শাকিল দুজনের নাম বলে গেছেন। তাদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডে আরও কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে রাকিবুল ইসলাম বলেন, তাকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে, তা তার জানা নেই। প্রশাসন তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক করেছে। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পান এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হন, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে নাটোর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তদন্তে পুলিশ বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে ২৬ অক্টোবর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৭ অক্টোবর রাতে শাকিলের জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে আব্দুল আজিজ নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হন।
সময়ের আলো/জোই