প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৮ এএম
রাস্তার পাশে কুণ্ডুবাড়ি মেলার প্রস্তুতি চলছে। ছবি : সময়ের আলোমাদারীপুরের কালকিনিতে প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুণ্ডুবাড়ি মেলা ঘিরে এবারও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কালীপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এ মেলার অনুমতি এখনো দেয়নি উপজেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে মহাসড়কের পাশে বাঁশের খুঁটি পুঁতে দোকানপাট নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালকিনি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুয়ালি মাদারীপুর ও দক্ষিণ গোপালপুর এলাকায় মহাসড়কের পাশে বাঁশের খুঁটি পুঁতে দোকানঘর নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে কালীপূজাকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় কুণ্ডুবাড়ি মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলার দোকান বরাদ্দ দেওয়ার নামে একটি মহল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উচ্চ হারে চাঁদা আদায় করে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই মহলের সখ্য থাকায় প্রতিবছর মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদা আদায়ের প্রবণতা বাড়ছে। এতে মেলার ঐতিহ্য ও সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসী জানান, ১৫ থেকে ২০ বছর আগেও কুণ্ডুবাড়ি মেলায় চাঁদা আদায়ের কোনো প্রচলন ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দোকান বরাদ্দের নামে চাঁদা আদায়ের প্রবণতা বেড়েছে। এতে ঐতিহ্যবাহী মেলাটি তার আগের জৌলুস হারাচ্ছে। জাতি, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে মেলাকে চাঁদামুক্ত রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। একই সঙ্গে স্বার্থান্বেষী কোনো মহল যাতে মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদা আদায় করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পূজা ও মেলা উদযাপন কমিটির কয়েকজন সদস্য বলেন, মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদা আদায়ের প্রচলন শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। অতীতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। তাদের ভাষ্য, তারা অসহায় ও নিরুপায়। প্রশাসন উদ্যোগ নিলেই এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।
এ বিষয়ে ইজারাদার আকবার সরদার বলেন, মহাসড়কের পাশে তারা যেসব স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সেগুলো ভেঙে ফেলেছেন।
তবে তার বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণ করা স্থাপনাগুলোর মূল কাঠামো এখনো আগের অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে কালকিনি পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাস বলেন, মেলার স্থানের ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো মেলা আয়োজনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। ইজারাদারকে ডেকে নির্মিত স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সময়ের আলো/জোই