প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪১ এএম
ছবি : সংগৃহীত ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ওষুধের দোকানগুলোতে নকল ও নিম্নমানের ওষুধ দেদার বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সদরপুর বাজার ও হাসপাতালের সামনে কতিপয় অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ী বিভিন্ন কোম্পানির নকল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করে আসছে এমন খবরে অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় চারটি ফার্মেসিকে জরিমানা করা হয়। অভিযানের খবরে বেশ কয়েকটি ফার্মেসি তাৎক্ষণিক বন্ধ করে চলে যান ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলার সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার আশরাফ বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ফার্মেসি পরিচালনা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ওষুধের দোকানগুলোতে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করে ওষুধ বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সদরপুর ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান হিরু (রাহাত) বলেন, বেশ কিছুসংখ্যক ওষুধের দোকান বন্ধ পাওয়া গেছে।
এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে চারটি ছাড়া বাকি সব ফার্মেসি বন্ধ হয়ে যায়। অভিযানের সময় দোকান বন্ধ করে পালানোর সুযোগ না পাওয়ায় ওই চারটি ফার্মেসিতে অভিযান চালানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সদরপুরের বেশিরভাগ ওষুধের দোকানে ভেজাল ওষুধ বিক্রি করা হয়। শুধু সদরপুর বাজার ও হাসপাতাল এলাকাতেই নয়, উপজেলার বিভিন্ন বাজারগুলোতে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধে সয়লাব হয়ে আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদরপুর উপজেলার বাজার ও হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৫০টি ওষুধের ফার্মেসি রয়েছে। এসব ফার্মেসিতে নকল ও নিম্নমানের বিভিন্ন ওষুধ বিক্রি হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকা এবং উদাসিনতার কারণেই বেশ কিছু ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ, অনুমোদনহীন এবং নকল ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ঢাকার মিটফোর্ড এলাকা থেকে কম দামে নকল ওষুধ এনে বিক্রি করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাজারের দুই ব্যবসায়ী জানান, অভিযান বন্ধ রাখতে সদরপুর ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন ওষুধের দোকান থেকে এক হাজার, দুই হাজার, তিন হাজার টাকাসহ বিভিন্ন অঙ্কের টাকা তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব অর্থ ঊর্ধ্বতন মহলে দিয়ে অভিযান বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের ও নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগ থাকলেও কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি সদরপুর বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি এবং ড্রাগ লাইসেন্স না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চারটি ওষুধের ফার্মেসিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুর জেলার সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার আশরাফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর ঔষধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি