প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
পাহাড়ে আজ থেকে শুরু চীবর দান উৎসব । ছবি : সময়ের আলোখাগড়াছড়িতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উৎসব উদযাপিত হয়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন বিহারে সমবেত হন নানা বয়সী পুণ্যার্থী। পঞ্চশীল গ্রহণ, বুদ্ধপূজা, ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন ও ধর্মদেশনা শ্রবণের মধ্য দিয়ে তারা অংশ নেন উৎসবে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জেলার কেন্দ্রীয় য়ংড বৌদ্ধ বিহার, ধর্মপুর আর্য বনবিহার, কল্যাণপুর বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন বিহারে দিনব্যাপী ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় এ উৎসব পালিত হয়।
সকালে খাগড়াছড়ি সদরের ধর্মপুর আর্য বনবিহারে কঠিন চীবর দানের প্রথম পর্বে বুদ্ধপূজায় অংশ নেন শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের পুণ্যার্থীরা। পরে রাঙ্গামাটি বনবিহারের পরম পূজনীয় ভিক্ষু ভদন্ত প্রজ্ঞা লঙ্কার ভান্তের নেতৃত্বে পঞ্চশীল গ্রহণ ও স্বধর্ম দেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, তুলা থেকে সুতা তৈরি করে চরকায় কেটে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চীবর বা বিশেষ পরিধেয় বস্ত্র বুনে ভিক্ষুদের দান করাই কঠিন চীবর দান। পুণ্য লাভের আশায় পুণ্যার্থীরা নিজেদের হাতে তৈরি এই বস্ত্র ভিক্ষুদের দান করেন।
বৌদ্ধ ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, চীবর দানের মাধ্যমে অন্যান্য দানের তুলনায় ১৬ গুণেরও বেশি পুণ্য লাভ করা যায়। এ কারণে কঠিন চীবর দানকে দানোত্তম বা দানশ্রেষ্ঠ বলা হয়।
দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতার শেষ পর্বে বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় প্রদীপ পূজা এবং ধর্মীয় মন্ত্র উচ্চারণ করা হয়। মূল আনুষ্ঠানিকতায় পুণ্যার্থীরা সারারাত ধরে নিজেদের বোনা চীবর বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করেন।
সময়ের আলো/এসকে