চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নামফলক । ছবি : সময়ের আলো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জালিয়াতির অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মামলার বিষয়টি জানাজানি হয়।
বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১০ বিষয়ে অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থীর নম্বর বাড়িয়ে পাস করানোর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। পরে ওই শিক্ষার্থীসহ শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ মামলার তদন্ত করছে।’
মামলায় দন্ডবিধির ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪৭৭ (ক) ধারা এবং পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ -এর ৫, ৬, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসামিরা হলেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের স্ক্যানিং অপারেটর ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরী (২৮), স্ক্যানিং অপারেটর মো. রাশেদুল ইসলাম (৩০) এবং কম্পিউটার অপারেটর (সলভার) নূর হোসেন রায়হান (৩২)। মামলার অপর আসামী ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হাসিবুল আলম শোভন।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুন:নিরীক্ষণের আবেদন করে ওই শিক্ষার্থী। পুন:নিরীক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্রের নম্বরের সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেল থেকে পাওয়া প্রিন্ট আউটের নম্বরের গরমিল দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষনিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে বোর্ডের প্রোগ্রামার যাচাই করে নম্বরের গরমিলের সত্যতা পেয়েছেন।
এদিকে, নম্বরের গরমিল তদন্তে বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি দুজন আইসিটি বিশেষজ্ঞের কারিগরি সহযোগিতায় মূল উত্তরপত্র, পরীক্ষকদের পাঠানো ম্যানুয়াল নম্বর ফর্দ, প্রকাশিত ফলাফল, এমসিকিউ ওএমআর এবং কম্পিউটার সেলের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে। গত ৯ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তদন্তে শিক্ষার্থীর ১১টি বিষয়ের সৃজনশীল অংশের নম্বর বাড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাংলার প্রথম পত্রে ২৩ নম্বরকে ৩৩, দ্বিতীয় পত্রে ২৪ নম্বরকে ৬২, ইংরেজির প্রথম পত্রে ৩৩ নম্বরকে ৮৩ এবং দ্বিতীয় পত্রে ২০ নম্বরকে ৮২ করা হয়। গণিতে ৯ নম্বর বাড়িয়ে ৬৬, ইসলাম শিক্ষায় ৭ থেকে ৬৪, উচ্চতর গণিতে শূন্য থেকে ৪৬, পদার্থবিজ্ঞানে শূন্য থেকে ৪৫, রসায়নে ১ থেকে ৪৬, জীববিজ্ঞানে ১ থেকে ৪৬ এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৪ থেকে ৬৫ নম্বর করা হয়।
অপরদিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থীর ইন্ধনে এবং কম্পিউটার সেলের সংশ্লিষ্ট তিন কর্মীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় পারস্পরিক যোগসাজশে এ জালিয়াতি করা হয়েছে। প্রকৃত নম্বরের পরিবর্তে বাড়ানো নম্বর বসিয়ে ফলাফলের হিসাব পরিবর্তন করা হয়। জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি ফলাফল অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। ফলাফলে অসংগতি ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীর ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। গত ১৫ অক্টোবর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। ২৬ অক্টোবর শিক্ষার্থী নোটিসের জবাব দিলেও তা সন্তোষজনক না হওয়ায় বোর্ড কর্তৃপক্ষ মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগেও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এক সাবেক সচিবের ছেলের বিরুদ্ধে ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল। এই মামলায় কয়েকজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। মামলাটির বিচার এখনো অব্যাহত আছে।
সময়ের আলো/এসকে