বরিশালে জমজমাট ইলিশের বাজার, মেঘনায় হাজারো জেলে

রাহাদ সুমন, বানারীপাড়া(বরিশাল) প্রতিনিধি

সারাদেশ

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বরিশালের মেঘনা নদীতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। রুপালি ইলিশের আশায় নদীতে

2026-10-30T22:21:44+00:00
2026-10-30T22:22:33+00:00
 
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
বরিশালে জমজমাট ইলিশের বাজার, মেঘনায় হাজারো জেলে
রাহাদ সুমন, বানারীপাড়া(বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২১ পিএম  আপডেট: ৩০.১০.২০২৬ ১০:২২ পিএম
প্লাস্টিকের ঝুড়িতে সাজিয়ে ঘাটে আনা ইলিশ । ছবি : সময়ের আলো
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বরিশালের মেঘনা নদীতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। রুপালি ইলিশের আশায় নদীতে নেমেছেন হাজার হাজার জেলে। তাদের জালে ইলিশের পাশাপাশি ধরা পড়ছে পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এসব মাছ নিয়ে একের পর এক নৌকা ভিড়ছে বরিশালের মাছঘাটগুলোতে।

এতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে আড়তদার, মৎস্য ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে। তবে মাছের সরবরাহ শুরু হলেও কমেনি ইলিশের দাম। বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আগের মতোই চড়া দামে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বরিশাল নগরীর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সরেজমিনে ঘুরে ঘাটে মাছ আসা ও কেনাবেচার এমন চিত্র দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে বরিশালের মেঘনা, কালাবদর, সুগন্ধা, সন্ধ্যা, জয়ন্তী, আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলাসহ বিভিন্ন নদীতে মাছ শিকারে নামেন জেলেরা। শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতেই মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতে শুরু করেন তারা। মেঘনার হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর এবং বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে একের পর এক জেলে নৌকা ভিড়তে থাকে।

প্লাস্টিকের ঝুড়িতে সাজিয়ে ঘাটে আনা হয় ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। মাছ নামানোর পরপরই শুরু হয় দরদাম ও হাঁকডাক। অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায় এসব মাছ।

শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে পোর্ট রোডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে জেলে আবুল হোসেন বলেন, ‘সাতজন মিলে মধ্যরাতে নদীতে নেমেছিলাম। আমাদের ধরা ইলিশ বিক্রি করেছি মোট ১৫ হাজার টাকায়। রাতে আবার মাছ ধরতে নদীতে নামবো।’ তবে কয়েক দিন পর ইলিশের প্রাপ্যতা কমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

পোর্ট রোডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘চাহিদা বেশি থাকায় ইলিশের দাম কমেনি। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। আর ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইলিশের পাশাপাশি জেলেদের জালে পাঙ্গাশও ধরা পড়ছে। বড় আকারের পাঙ্গাশ কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট আকারের পাঙ্গাশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের সরবরাহ বাড়লে বাজারদরে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি।’


অপর আড়তদার সেলিম মিয়া বলেন, ‘শুক্রবার সকাল থেকে ঘাটে মাছ আসতে শুরু করেছে। শনিবার মাছের সরবরাহ পর্যবেক্ষণ করলে ইলিশের আমদানি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। কারণ, আগের বছরগুলোতে নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দুই দিন মাছের সরবরাহ ভালো থাকলেও পরে তা কমে যেত।’

আড়তদার ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শেষে ঘাটে বড় ইলিশ বেশি আসছে। ছোট ইলিশের সংখ্যা তুলনামূলক কম। প্রত্যাশার তুলনায় ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে পাঙ্গাশ ধরা পড়ায় জেলেদের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের দুটি অভিযান কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় জেলেরা এর সুফল পাচ্ছেন। ইলিশের পাশাপাশি পাঙ্গাশও পাওয়া যাচ্ছে। পাঙ্গাশের উৎপাদন ও বংশবিস্তার বাড়াতে সরকারিভাবে কার্যকর প্রকল্প নেওয়া হলে এ মাছও ইলিশের মতো জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

সময়ের আলো/এসকে
  বিষয়:   বরিশাল  জমজমাট  ইলিশ  বাজার  মেঘনা  হাজারো  জেলে  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: