প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম আপডেট: ৩১.১০.২০২৬ ৭:১২ পিএম
জাটকা ইলিশ । ছবি : সংগৃহীত ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ মাছের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে আজ মধ্যরাত থেকে সাগর ও নদীতে জাটকা আহরণে কার্যকর হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা। আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত টানা আট মাস এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এ সময়ে ২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের ইলিশ ধরা, পরিবহন, বিক্রি, কেনাবেচা ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মৎস্য অধিদপ্তর এ কর্মসূচির বাস্তবায়ন করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান -২০২৬’ পরিচালনা করা হয়। ওই সময়ে ডিমওয়ালা ইলিশের ডিম থেকে উৎপন্ন পোনা উপকূলীয় নদ-নদী ও মোহনায় বিচরণ করছে। সাধারণত পাঁচ থেকে আট মাস পর্যন্ত এসব পোনা ওই অঞ্চলে থাকে।
মৎস্য অধিদপ্তরের লক্ষ্য, এ সময়ে জাটকা আহরণ বন্ধ রেখে ইলিশের পোনাগুলোকে নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া। এতে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, জাটকা সংরক্ষণে জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধিত) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী, অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে।
আট মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে দেশজুড়ে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। মৎস্য অধিদপ্তরের নেতৃত্বে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করবে।
নদী, সাগর ও উপকূলীয় এলাকায় জাটকা আহরণ বন্ধের পাশাপাশি পরিবহন, বাজারজাতকরণ এবং অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এসকে