প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২০ পিএম
ছবি : সংগৃহীতনিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে খেলার মাঠ কিনেছেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। এবার তাদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। গ্রামবাসীর কেনা মাঠের পাশের আরও ৬০ শতাংশ জমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের বসবাস বাবুপুর গ্রামে। সাত শতাধিক পরিবারের এই গ্রামে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য এতদিন স্থায়ী কোনো মাঠ ছিল না। ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে খেলার সুযোগ মিললেও চাষাবাদ শুরু হলে তা বন্ধ হয়ে যেত।
এই সংকট কাটাতে গ্রামের ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলম ও উদ্যোক্তা এস এম ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে উদ্যোগ নেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মতবিনিময় সভার মাধ্যমে গঠন করা হয় তহবিল। গ্রামের কেউ ২০০, কেউ ৫০০, ১ হাজার, আবার কেউ ৫ হাজার বা ১০ হাজার টাকা দিয়ে তহবিলে অংশ নেন। জমির মালিক ইকবাল হোসেন সুজনও এক শতাংশ জমি দান করেন।
এভাবে ৬০ শতাংশ জমি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাকি ৫৯ শতাংশ জমির জন্য ৩০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেন গ্রামবাসী। গত ২৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের কাছে জমি হস্তান্তর করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয় মাঠটি।
গণমাধ্যমে গ্রামবাসীর এই উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের। তিনি টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও দেলদুয়ারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্যোগটির বিস্তারিত জানেন। এরপর মাঠের পাশের আরও ৬০ শতাংশ জমি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিনে গ্রামবাসীকে উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আমিনুল হক বলেন, ‘খেলার মাঠের জন্য বাবুপুর গ্রামের মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকার ও মন্ত্রণালয় সব সময় এমন ইতিবাচক ও স্বউদ্যোগী কাজকে উৎসাহ দিতে চায়। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা যদি এই গ্রামবাসীর পাশে থাকতে পারি, তা হবে বিশেষ কিছু।’
এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে আগামীকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গ্রামবাসীর প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বাবুপুরের খেলার মাঠের আয়তন আরও ৬০ শতাংশ বাড়বে। ফলে গ্রামের শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য বড় পরিসরের মাঠ তৈরি হবে।
সময়ের আলো/টিকে