তিন ম্যাচ খেলে এখনও জয়ের দেখা পায়নি জিমি-আমিরুলরা। ছবি : সংগৃহীত এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের ব্যর্থতার ধারায় যোগ হলো আরও একটি হার। ভারতের জলন্ধরে টুর্নামেন্টের তৃতীয় ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৬-১ গোলে হেরেছে পিটার গেরহার্ডের দল। তিন ম্যাচ খেলে এখনও জয়ের দেখা পায়নি জিমি-আমিরুলরা। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে প্রতিটি ম্যাচই এখন বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরীক্ষা।
সুরজিৎ সিং হকি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে মালয়েশিয়া। র্যাঙ্কিংয়েও দুই দলের ব্যবধান স্পষ্ট— বিশ্ব হকিতে মালয়েশিয়ার অবস্থান ১৩তম, বাংলাদেশ ২৭তম। মাঠের খেলাতেও সেই পার্থক্য ফুটে উঠেছে। আক্রমণে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে একের পর এক গোল আদায় করে নেয় মালয়েশিয়ার খেলোয়াড়রা।
বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র গোলটি আসে ম্যাচের ২৬ মিনিটে। পেনাল্টি কর্নার থেকে লক্ষ্যভেদ করেন আমিরুল ইসলাম। তবে ততক্ষণে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মালয়েশিয়া। ম্যাচে ছয়টি পেনাল্টি কর্নার পেলেও পাঁচটি থেকেই গোল আদায় করতে পারেনি বাংলাদেশ। অন্যদিকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়িয়েছে প্রতিপক্ষ। মালয়েশিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ দুটি গোল করেন আবু কামাল।
তবে বড় ব্যবধানে হারলেও নিজেদের খেলায় ইতিবাচক দিক দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম। তার মতে, আক্রমণ তৈরি করতে পারলেও সেগুলো থেকে গোল আদায় করতে না পারাই দুই দলের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
ম্যাচ শেষে আশরাফুল বলেন, ‘আমরা সঠিক পথেই আছি। অনেক সুযোগ তৈরি করেছি, কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। ওরা যে সুযোগগুলো পেয়েছে, সেগুলো কাজে লাগিয়েছে। পার্থক্যটা এখানেই।’
প্রতিপক্ষের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘ওরা বিশ্বকাপ খেলে, আমরা এখনও ওদের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। হকিতে এক মিনিটের মধ্যে তিন গোলও সম্ভব। আমরা ওদের সমমানের না হলেও অনেক আক্রমণ করেছি।’
দুই দলের সাম্প্রতিক লড়াইয়ের পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। আগের পাঁচবার মুখোমুখি হয়েও মালয়েশিয়াকে হারাতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবারও সেই অচলায়তন ভাঙা সম্ভব হয়নি।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের কাছে ১৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারে দলটি। এবার মালয়েশিয়ার কাছে ছয় গোল হজম করতে হলো। তিন ম্যাচে বাংলাদেশের গোল মাত্র দুটি, বিপরীতে প্রতিপক্ষের জালে বল গেছে ২০ বার।
এবার সামনে দক্ষিণ কোরিয়ার চ্যালেঞ্জ। আগামী ১ নভেম্বর একই স্টেডিয়ামে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। টানা তিন হারের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তৈরি করা সুযোগগুলো কাজে লাগানোই এখন পিটার গেরহার্ডের দলের বড় চ্যালেঞ্জ।
সময়ের আলো/কেএইচও