মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসের দৃশ্য । ছবি : সংগৃহীতমিরপুরে জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশের সামনে এখন একটাই পথ— যতটা সম্ভব বড় লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই পথ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা স্বাগতিকদের লিড এখন ১০৬। হাতে মাত্র চার উইকেট। জাকের আলি ও নাঈম হাসানের ব্যাটে ভর করে অন্তত ২০০ রানের লক্ষ্য দিতে চায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চাওয়া, চতুর্থ দিনের সকালে দ্রুত বাকি উইকেট তুলে নিয়ে লক্ষ্যটা ১৫০ রানের নিচে আটকে রাখা।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিন ছিল বোলারদের দাপটের। দুই দলই হারিয়েছে ৬টি করে উইকেট। তবে দিন শেষে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় তাদের সামনে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিডসহ এখন তাদের এগিয়ে থাকা ১০৬ রানে।
প্রথম ইনিংসে নাঈম হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে আটকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। তাতে ২৭ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি ব্যাটাররা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ৫৩ রানেই ৬ উইকেটে পরিণত হয় দল। সেখান থেকে জাকের ও নাঈমের অবিচ্ছিন্ন জুটি কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে। দুজন মিলে যোগ করেছেন ২৬ রান। দিন শেষে দুজনই অপরাজিত ১৮ রান করে।
চতুর্থ দিনের সকালে এই জুটির ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের ইনিংস কতদূর এগোবে। নাঈমের আশা, জাকেরকে নিয়ে লম্বা সময় ব্যাটিং করে দলের সংগ্রহ যতটা সম্ভব বাড়ানো। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের লক্ষ্যের কথাও জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের লক্ষ্য অন্তত ২০০ রানের পুঁজি গড়া।
নাঈম বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব যত বেশি রান দিতে পারি। এখন আমি আর জাকের ভাই ব্যাটিং করছি, আমরা যদি লম্বা খেলতে পারি ইনশাআল্লাহ তা হলে যত বেশি রান দেব ততই আমাদের জন্য ভালো। ২০০ রান হলে ইনশাআল্লাহ খুবই ভালো হবে। চেষ্টা থাকবে আরও বেশি করার।’
তবে বাংলাদেশের সেই লক্ষ্য পূরণের পথে বড় বাধা হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা। সফরকারীদের পরিকল্পনা পরিষ্কার— চতুর্থ দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই জাকের-নাঈমের জুটি ভেঙে দ্রুত ইনিংস শেষ করা। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহকারী কোচ ফ্লয়েড রেইফার জানিয়েছেন, ১২৫ রানের মতো লক্ষ্য পেলে তা তাড়া করতে আত্মবিশ্বাসী তার দল।
রেইফার বলেন, ‘ওদের রান এখন ৬ উইকেটে ৭৯। কাল (শনিবার) সকালে নেমে দ্রুত বাকি উইকেটগুলো তুলে নেওয়াই থাকবে আমাদের মূল লক্ষ্য। লক্ষ্যটা যদি ১২৫ রানের মতো হয়, তবে এই উইকেটে তা তাড়া করা আমাদের পক্ষে খুব সম্ভব।’
তবে সেই লক্ষ্য পেতে হলে সকালের সেশনেই জাকের ও নাঈমের জুটি ভাঙতে হবে বলে মনে করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহকারী কোচ। তার মতে, চতুর্থ দিনের প্রথম এক ঘণ্টা হতে পারে ম্যাচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘এর জন্য অবশ্যই দ্রুত উইকেট নিতে হবে। কালকের (আজকের) প্রথম এক ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, বিশেষ করে ওদের এই জুটি ভাঙার ক্ষেত্রে। ওই জুটি ভাঙতে পারলেই কাজটা সহজ হয়ে যাবে।’
অবশ্য লক্ষ্য ১২৫ রানের বেশি হলেও খুব একটা চিন্তিত নন রেইফার। তার বিশ্বাস, এই উইকেটে ১৫০ কিংবা ১৭৫ রানও তাড়া করার সামর্থ্য আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের। স্পিনের বিপক্ষে দলের প্রস্তুতি এবং ব্যাটিংয়ের উন্নতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি।
রেইফারের ভাষায়, ‘এমন উইকেটে আমরা ১৫০ কিংবা ১৭৫ রানও তাড়া করতে সক্ষম। ছেলেরা এই পিচে সত্যিই ভালো ব্যাট করছে। দেখাই যাচ্ছে, আমরা স্পিনটা তুলনামূলক ভালো খেলি। স্পিনের বিপক্ষে ব্যাটিং নিয়ে আমরা যথেষ্ট কাজ করেছি।’
সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্ট্রাইক রোটেট করা, রক্ষণ সামলানো এবং রান বের করার কৌশলে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। তাই লক্ষ্য যা-ই হোক, সেটি তাড়া করে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সফরকারীরা। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে স্ট্রাইক রোটেট করা, রক্ষণ এবং রান তোলার উপায়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তাই কাল (আজ) যে লক্ষ্যই দাঁড়াক না কেন, তা তাড়া করে জিততে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’
দুই দলের লক্ষ্য এখন স্পষ্ট। বাংলাদেশ চায় জাকের-নাঈমের ব্যাটে ভর করে অন্তত ২০০ রানের পুঁজি গড়তে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিকল্পনা, দিনের শুরুতেই জুটি ভেঙে লক্ষ্য যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখা। মিরপুরের স্পিনসহায়ক উইকেটে শেষ পর্যন্ত কার পরিকল্পনা সফল হয়, তা অনেকটাই নির্ধারিত হবে চতুর্থ দিনের প্রথম ঘণ্টায়।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসকে