১০৬ রানের লিড নিয়ে চাপে বাংলাদেশ। ছবি : সংগৃহীতদিনের শুরুতে বল হাতে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ, কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে সেই স্বস্তি ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিন আক্রমণে মাত্র ৩৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে দল। সেখান থেকে জাকের আলি অনিকের প্রতিরোধে লিড একশ ছাড়িয়েছে। তবে আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা।
শুক্রবার দিনের খেলা বন্ধ হওয়ার সময় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান। সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ১০৬ রানে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাকি চার উইকেট তুলে নিতে খুব বেশি সময় নেয়নি বাংলাদেশ। ১৩৪ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করা ক্যারিবীয়দের হয়ে প্রতিরোধ গড়েছিলেন তেজনারায়ণ চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রিভস। তবে দুজনের কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি।
১৮৪ বলের ইনিংসে ৬টি চার ও একটি ছক্কায় ৫৬ রান করেন চন্দরপল। শরিফুল ইসলামের বলে স্লিপে শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। গ্রিভসের সঙ্গে তার জুটি থেকে আসে ৬৫ রান। অন্যদিকে, মুমিনুল হকের ক্যাচ মিসে একবার বেঁচে যাওয়া গ্রিভস শেষ পর্যন্ত নাঈম হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হন। ১০৩ বলে ২ চারে ৪৬ রান করেন তিনি।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বাকি উইকেটগুলো দ্রুত তুলে নেয় বাংলাদেশ। অভিষিক্ত জশুয়া বিশপ তিনটি চার মেরে শুরু করলেও ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। মিরাজের বলে স্টাম্পিং হন তিনি। এরপর নাঈমের বোলিংয়ে একে একে ফেরেন শামার জোসেফ ও জোমেল ওয়ারিকান। শেষ ব্যাটার জেইডেন সিলসকে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ইতি টানেন নাঈম।
ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাঈম হাসান। তার শিকার ৪ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম পান ২টি করে উইকেট। হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম নেন একটি করে উইকেট। দ্রুততম বাংলাদেশি হিসেবে ৫০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলকও পূর্ণ করেন নাঈম।
তবে বল হাতে পাওয়া স্বস্তি দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। শুরুতেই শামার জোসেফের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। আগের ইনিংসে ৭ রান করা এই ওপেনার এবার কোনো রান না করেই বিদায় নেন। দলীয় স্কোর তখন মাত্র ১।
শান্ত ও সাদমান ইসলামের জুটি লিড ৫০ পেরিয়ে নিলেও স্থায়ী হয়নি। ৩০ বলে ১৩ রান করা সাদমানকে বোল্ড করেন চেজ। এরপর জোসেফের বলে মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাওহীদ হৃদয়। আগের ইনিংসে ৪২ রান করা হৃদয় এবার রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ায় মুমিনুল হকের বদলি হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামেন জাকের আলি অনিক। এর মধ্যেই বৃষ্টির কারণে আগেভাগে চা বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির আগে ৩৪ রান তুলতেই চার উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
বিরতি থেকে ফিরে আরও বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা। জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৪ রানেই ফেরেন লিটন দাস। এরপর একই বোলারের শিকার হন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার সংগ্রহ ৯ রান। ফলে ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় লিড গড়ার স্বপ্নই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে বাংলাদেশের।
এ অবস্থায় দলের হাল ধরার চেষ্টা করছেন জাকের আলি। তার ব্যাটে ভর করেই লিড শতরান ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ। তবে দিনের বাকি সময় আলোকস্বল্পতার কারণে আর খেলা সম্ভব হয়নি।
সময়ের আলো/জেডি