সংগৃহীত ছবিপাবলিক পরীক্ষায় কত শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলে ফলকে ভালো বলা যায়—এমন কোনো সর্বজনস্বীকৃত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নেই। দেশভেদে শিক্ষাক্রম, পরীক্ষার ধরন, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও পাসের শর্ত ভিন্ন হওয়ায় শুধু পাসের হার দিয়ে এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের শিক্ষার মান তুলনা করাও কঠিন। তবে বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়।
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৪৮ জনই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। সব মিলিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।
গত বছর এই পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে তা কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ৬৯ হাজার ৯৭ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৮৪-তে। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সে হিসাবে দুই বছরে পাসের হার কমেছে ২৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ পয়েন্ট।
অন্য দেশগুলোর চিত্র
বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনার ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ভারতের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ফল গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (সিবিএসই) দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ২০২৬ সালে পাসের হার ৮৫ দশমিক ২০ শতাংশ। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৮৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অর্থাৎ ভারতেও সাম্প্রতিক সময়ে পাসের হারে কিছুটা অবনতি হয়েছে। তবে বাংলাদেশের ৫২ দশমিক ১২ শতাংশের তুলনায় দেশটির পাসের হার অনেক বেশি।
শ্রীলঙ্কায় ২০২৫ সালের জেনারেল সার্টিফিকেট অব এডুকেশন অ্যাডভান্সড লেভেল (জি.সি.ই. এ/এল) পরীক্ষায় ৬২ দশমিক ৬৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করেন। এটি দেশটির সামগ্রিক পাসের হার নয়; বরং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের যোগ্যতা অর্জনের একটি সূচক।
পাকিস্তানের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষায় বোর্ডভেদে পাসের হারে পার্থক্য রয়েছে। ২০২৫ সালে লাহোর ও মুলতান বোর্ডের নিয়মিত দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। দেশটির ফেডারেল বোর্ডের দ্বিতীয় বার্ষিক পরীক্ষায় একই শ্রেণিতে পাস করেন ৬৯ দশমিক ৭০ শতাংশ পরীক্ষার্থী।
দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জর্ডানের পরীক্ষার ফলেও তুলনামূলকভাবে বেশি পাসের হার দেখা গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাশনাল সিনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৮৮ শতাংশ। অন্যদিকে জর্ডানের তাওজিহি পরীক্ষায় ২০২৬ সালে ৬৫ দশমিক ৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
পাসের হারই কি শিক্ষার মানের মাপকাঠি?
শুধু পরীক্ষায় কতজন পাস করলেন, তা দিয়ে একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক মান নির্ধারণ করা যায় না। শিক্ষার্থীরা কতটা শিখছেন, অর্জিত জ্ঞান বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করতে পারছেন কি না এবং পরবর্তী শিক্ষাজীবনের জন্য কতটা প্রস্তুত—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) একটি পর্যালোচনা প্রাসঙ্গিক। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যেসব দেশে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তির পর শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি অনুসরণের ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে গড়ে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৭২ জন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তবে এই হার পরীক্ষায় পাসের হার নয়; এটি নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাক্রম শেষ করার সূচক।
ওইসিডির শিক্ষা ও দক্ষতাবিষয়ক পরিচালক আন্দ্রেয়াস শ্লাইখার মনে করেন, শিক্ষার্থীদের শুধু তথ্য মুখস্থ করানোর পরিবর্তে অর্জিত জ্ঞান নতুন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ এবং সৃজনশীলভাবে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি করা জরুরি।
একইভাবে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থার (ইউনেসকো) আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যুরোর শিক্ষাবিদ কনরাড হিউজেস মূল্যায়ন পদ্ধত
সময়ের আলো/কেএইচও