প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম আপডেট: ৩১.১০.২০২৬ ১১:৩৬ পিএম
রাব্বি পা দিয়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল। ছবি : সময়ের আলো অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের জোরে সব বাধাকে জয় করে রাব্বি প্রমাণ করেছে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনো মেধার বিকাশ বা স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হতে পারে না। এইচএসসি পরীক্ষায় তার এই জিপিএ-৫ অর্জন শুধু তার নিজের কিংবা পরিবারের নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প।
স্মরণ করা যেতে পারে, এর আগে যখন রাব্বি পা দিয়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল, তখন তার এই অভাবনীয় সাফল্য দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সে সময় সমাজের বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনেকেই তার খোঁজখবর নিতে এসেছিলেন এবং তার পড়াশোনার সব দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের সহায়তার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই কেবল আশ্বাসের বাণী হয়েই থেকে গিয়েছিল; বাস্তবায়নের মাঠে কেউ তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি।
অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে চলা রাব্বির পরিবারে সংগ্রামের চিত্রটি ছিল আরও কঠিন। তার বাবা বজলুর রহমান ও মা দুজনেই দৈনিক মজুরির কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। চরম অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেও ছেলের অদম্য জেদ আর পড়াশোনার প্রতি গভীর অনুরাগ দেখে তারা সব সময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তবে রাব্বির এই দীর্ঘ পথচলায় কিছু মানুষ সত্যিই আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌস কাদেরী নিজ দায়িত্বে রাব্বির পড়াশোনার খরচ চালিয়ে আসছেন। পাশাপাশি ওসমান নামের এক স্থানীয় শিক্ষক তাকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কোচিং করিয়ে তার স্বপ্নযাত্রাকে সহজ করে দিয়েছেন। এছাড়া, রাব্বির বড়ো বোন রোকাইয়া আক্তারও এবার ভাটিয়ারী বিজয় সরণি কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগ সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন।
রাব্বির এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার শিক্ষক ও এলাকাবাসীও। তার এই অদম্য পথচলা কেবল চট্টগ্রাম কিংবা সীতাকুণ্ডেই নয়, বরং পুরো দেশের প্রতিবন্ধী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দুই হাত না থাকলেও মনের জোরে কীভাবে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখতে হয় এবং তা বাস্তবায়ন করতে হয়, রাব্বি তার চমৎকার প্রমাণ দিয়েছেন। এখন তার একটাই লক্ষ্য— উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিজ্ঞানী হওয়া এবং দেশের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা। সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল মানুষেরা যদি এবার সত্যি সত্যিই এই মেধাবী তরুণের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তবে রাব্বির বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথ আরও সুগম হবে।
সময়ের আলো/এনএন